EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ
অ অ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ তথ্য জানিয়েছে।

এফএওর হিসাবে, আগস্টে খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে সংশোধিত এই সূচক ছিল ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক মাসে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

ইউরোপে তীব্র দাবদাহ ও খরা, এশিয়ায় সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাব এবং ইউক্রেন ও ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক অস্থিরতায় কৃষিপণ্যের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক খাদ্যবাজারে চাপ বেড়েছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম বাড়া বাজারে ঝুঁকি ফিরে আসার সতর্কসংকেত। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার কারণে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।

আগস্টে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে। খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এটি ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। চিনির মূল্যসূচক বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ইউরোপের প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভুট্টা ও বিট থেকে চিনি উৎপাদন এবং গবাদিপশু পালনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এফএও পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে মোট শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস জুলাইয়ের হিসাবের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন টন করা হয়েছে। এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ২ শতাংশ কমতে পারে।

এফএও বলছে, এই পতন ২০১৮ সালের পর বার্ষিক শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় কমার ঘটনা হতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে শস্য সরবরাহে বিঘ্ন এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়াও বৈশ্বিক খাদ্যবাজারের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

আরও পড়ুন