তাপপ্রবাহে ইউরোপ বিপর্যস্ত, জার্মানিতে মৃত্যু ১৬ হাজার
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
তীব্র তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে বেড়েছে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা।
তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। এর মধ্যে জার্মানিতে তাপজনিত কারণে রেকর্ড ১৬ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ কথা জানানো হয়েছে।
জার্মানির সরকারি জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর আগের সপ্তাহে সংস্থাটি ১৫ হাজার ৮০০ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব দিয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে আরো এক সপ্তাহের তথ্য যুক্ত হয়েছে। তাপজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে।
রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের হিসাব বলছে, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুন এক সপ্তাহেই প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে গত এক দশক ধরে তাপজনিত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে সংস্থাটি। এর আগের সর্বোচ্চ হিসাব ছিল ২০১৮ সালে, যখন প্রায় ৮ হাজার ৯০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হয়েছিল। তবে একটি পৃথক চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশনায় ১৯৯৪ সালে জার্মানিতে প্রায় ১০ হাজার তাপজনিত মৃত্যুর অনুমান করা হয়েছিল।
এদিকে ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে বিভিন্ন দেশে ৩০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই চরম তাপপ্রবাহের প্রবণতার সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে।
বেলজিয়ামেও এবারের গ্রীষ্মে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিয়েন্সানো বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুন থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সময় বেলজিয়ামে মোট ২ হাজার ৯৩৫টি অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। এ সময় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মৃত্যুহার ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল।
এর মধ্যে ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এই সময়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৩৫ জনের মৃত্যু হয়, যা প্রত্যাশিত মৃত্যুহারের চেয়ে ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ১৮ জুন থেকে টানা ১০ দিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এর মধ্যে তিন দিন তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। একই সময়ে রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল।
সিয়েন্সানো জানিয়েছে, ২০০০ সালে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু করার পর ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সময়টিতেই সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। বেলজিয়ামে পরবর্তী দুটি তাপপ্রবাহেও অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। ৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ৫৩৫ জন এবং ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত আরো ৩৬৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে।
তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ। তবে সিয়েন্সানো জানিয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে।
চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা গত মাসে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে।