বিয়ের আসরেও রেহাই নেই! মার্কিন হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল ইরান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওই হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-প্রতিনিধি গোলাম হোসেইন দারজি বুধবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব অভিযোগ করেন।
চিঠিতে দারজি বলেন, ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি শহরে নতুন করে সামরিক হামলা চালায়। এর মধ্যে হরমুজগান প্রদেশের সিরিক শহরের কোহেস্তাক এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলা চালানো হয়। ওই সময় ভবনটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানি এই কূটনীতিকের দাবি, হামলায় শিশুসহ চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
দারজি বলেন, বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের হত্যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাঁর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের—বিশেষ করে শিশুদের—ইচ্ছাকৃত বা নির্বিচারে হত্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসব ঘটনাকে শুধু ‘পার্শ্বক্ষতিজনিত ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়ানোও সম্ভব নয়।
দারজির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এই দায়িত্বের গুরুতর ও ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘন আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য রাষ্ট্র ও পক্ষগুলোকেও সতর্ক করেছেন দারজি। তাঁর অভিযোগ, যারা কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত লঙ্ঘন বা অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে সহায়তা, সমর্থন কিংবা অংশগ্রহণ করছে, তারাও এসব কর্মকাণ্ডের পরিণতির জন্য দায়ী থাকবে।