ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি গ্রিসের
তেল আবিবে সই হওয়া চুক্তিতে ইসরায়েল থেকে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনবে গ্রিস
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৯ এএম
তেল আবিবে গ্রিস-ইসরায়েল ৩৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।
ইসরায়েলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে গ্রিস। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল থেকে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনবে দেশটি। দুই দেশের মধ্যে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। সোমবার তেল আবিবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মূল অংশ হলো ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের একটি বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এতে তিনটি প্রধান প্রযুক্তি থাকবে। প্রথমটি ডেভিডস স্লিং, যা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার রকেট প্রতিহত করতে পারে। এটি প্রায় ৪০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। দ্বিতীয়টি স্পাইডার, যা নিচু উচ্চতায় ওড়া বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ঠেকাতে তৈরি। তৃতীয়টি বারাক এমএক্স, যা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনসহ নানা আকাশপথের হুমকি ঠেকাতে পারে। এর পাল্লা প্রায় ৩৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার।
চুক্তির আওতায় আকাশপথ পর্যবেক্ষণের জন্য একাধিক রাডার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর একটি কমান্ড সেন্টারও দেবে ইসরায়েল। এ ছাড়া প্রায় ৩ কোটি ডলারের আরেকটি পৃথক চুক্তির মাধ্যমে ড্রোন প্রতিরোধী ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থাও পাবে গ্রিস।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত গ্রিসের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গ্রিসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি থাকায় সংঘাত বিস্তৃত হলে দেশটিও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী তুরস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান ড্রোন সক্ষমতাও এই চুক্তির একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় ইউরোপের কয়েকটি দেশ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল ইসরায়েলি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
তুরস্ক এখনও এই চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির কিছু বিশ্লেষক এর আগে গ্রিস ও সাইপ্রাসের ইসরায়েলি অস্ত্র কেনার সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে গ্রিস গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
গ্রিসের ভেতরেও ইসরায়েলের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। জুনে প্রকাশিত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিসের প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন না যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক বিষয়ে সঠিক ভূমিকা পালন করবেন। বিরোধী দলের নেতা ও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। গ্রিসের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারুফাকিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, গ্রিসকে ‘ইসরায়েলের উপগ্রহ রাষ্ট্রে’ পরিণত করার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে গ্রিসের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এটি ইসরায়েলের জন্যও ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সদস্যের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গভীর করার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।