EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

হুমকি থেকে ‘জয়’ ঘোষণা, ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরান যুদ্ধ

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

হুমকি থেকে ‘জয়’ ঘোষণা, ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরান যুদ্ধ

ছয় মাসে ইরান নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ৩১৯টি পোস্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অ অ

ছয় মাস আগে ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই ছয় মাসে ইরান নিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্তত ৩১৯টি পোস্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টায় একটি করে পোস্ট। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এসব পোস্ট বিশ্লেষণ করে যুদ্ধের একটি ভিন্ন দিনপঞ্জি তৈরি করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে যুদ্ধের হুমকি থেকে সরাসরি হামলা, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি পর্যন্ত সবকিছুই ট্রাম্পের নিজের ভাষায় সামনে এসেছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ট্রুথ সোশ্যালে মোট ৪ হাজার ১৮৯টি পোস্ট দেন ট্রাম্প। দিনে গড়ে প্রায় ২৪টি। এর মধ্যে প্রতি ১৩টি পোস্টের একটিতে ছিল ইরান প্রসঙ্গ। ইরান নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি পোস্ট করেছেন ওয়াশিংটনের সময় সকাল ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে। তেহরানের হিসাবে তখন সন্ধ্যা।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান নিয়ে পোস্টে ‘ইরান’ শব্দটি এসেছে ৫১০ বার। এরপর সবচেয়ে বেশি এসেছে ট্রাম্প নিজের ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম। তিনি নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ বা ‘প্রেসিডেন্ট ডিজেটি’ বলে উল্লেখ করেছেন ২২১ বার। প্রায় প্রতি চারটি পোস্টের একটির শেষে ছিল তাঁর পরিচিত বিদায়বাক্য, ‘এই বিষয়ে আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ’।

যুদ্ধ শুরুর আগে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইরান নিয়ে মাত্র ১৭টি পোস্ট করেন ট্রাম্প। এসব পোস্টে হুমকি ও আলোচনার মিশ্র বার্তা ছিল। তিনি ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের হুমকি দেন, আবার তেহরানকে আলোচনায় বসারও আহ্বান জানান। তাঁর বার্তা ছিল সংক্ষিপ্ত, ‘চুক্তি করুন।’

২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হয়েছে। ৫৫ মিনিট পর ট্রাম্প একটি ভিডিও পোস্ট করে বড় সামরিক অভিযানের কথা জানান। সেদিনই তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। পরের দুই সপ্তাহে আরও ৪০টি পোস্টে তিনি জানান, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া কোনো সমঝোতা হবে না।

১৪ মার্চ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। এরপর বিভিন্ন সময় হরমুজ প্রণালি নিয়ে একাধিক সময়সীমার হুমকি দেন তিনি। ৭ এপ্রিল একটি ‘চূড়ান্ত’ হামলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা মারা যাবে।’ তবে পাকিস্তানের অনুরোধে সেই হামলা তিনি স্থগিত রাখেন।

১২ এপ্রিল ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ শুরুর ঘোষণা দেন, যার নাম দেন ‘ইস্পাতের দেয়াল’। এই অবরোধই ছিল যুদ্ধজুড়ে তাঁর ধরে রাখা প্রধান কৌশল। ২০ এপ্রিল তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল তাঁকে যুদ্ধে যেতে রাজি করায়নি। ছয় মাসে ইসরায়েলের নাম এসেছে মাত্র ৩২ বার এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নাম মাত্র দুবার।

মে মাসে যুদ্ধের ধরন বদলে যায়। আকাশপথে হামলার বদলে শুরু হয় প্রকাশ্য আলোচনা। ১৪ জুন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সেই সমঝোতা বেশিদিন টেকেনি। ২৬ জুন ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের দিকে ড্রোন ছোড়ে বলে দাবি করেন তিনি, এরপর যুক্তরাষ্ট্র ফের হামলা চালায়।

১০ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’। ২ আগস্ট আরেকটি পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেন তিনি। ১০ আগস্ট এমন একটি প্রতিবেদন পোস্ট করেন যার শিরোনাম ছিল, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধ জিতেছেন’। ১৯ আগস্ট তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন।

ছয় মাসে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের পোস্টের মোট শব্দসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪৭৮। যুদ্ধের ঘোষণা, হামলা, হুমকি, অবরোধ, যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা, সবকিছুরই একটি বিকল্প ইতিহাস তৈরি হয়েছে তাঁর এসব পোস্টে।


আরও পড়ুন