পশ্চিমবঙ্গে পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৬
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে তারাপীঠ থানার কাছে পুকুরপাড় এলাকায় ‘বিদেশিনী’ নামের হোটেলটিতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলের নিচতলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের এনসিবি ফেটে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের তীব্রতায় নিচতলার একাংশ দ্রুত পুড়ে যায় এবং ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ওপরের তলাগুলো। নিচে আগুন থাকায় বেশ কয়েকজন আবাসিক ওপরের তলায় আটকা পড়েন। কেউ কেউ প্রাণ বাঁচাতে ওপর থেকে বিভিন্ন জিনিস নিচে ফেলতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে দমকল বাহিনীর একাধিক দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর হোটেলের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে আটকে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হোটেল মালিক কল্যাণ পাল জানান, আগুন লাগার পর রাতপাহারার কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে হোটেলের সাজসজ্জায় ব্যবহৃত ফাইবারজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিবারের সঙ্গে হোটেলে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা তপনজ্যোতি মণ্ডল। তিনি জানান, আগুন দেখতে পেয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। জানালা না থাকায় তাঁরা দীর্ঘক্ষণ আটকে ছিলেন। পরে শৌচাগারের ওপরের ফাঁকা অংশ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে। তাঁর মা ও বোনও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
শ্রাবণ মাস উপলক্ষে ওই হোটেলে মালদহ, আলিপুরদুয়ারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অবস্থান করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারাপীঠে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
