EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানুষ

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

বিরল সূর্যগ্রহণে মুগ্ধ যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নাটকীয় ও বিরল সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হয়েছেন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের লাখ লাখ মানুষ। বুধবার (১২ আগস্ট) এক প্রজন্মে একবার দেখা যায় এমন এই মহাজাগতিক ঘটনা ঘিরে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

যুক্তরাজ্য থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। ব্রিটিশ গ্রীষ্মকালীন সময় (বিএসটি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশটির বেশির ভাগ এলাকা থেকে সূর্যের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যায়।

তবে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু এলাকার মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান। পূর্ণগ্রাসের সময় কয়েক মিনিটের জন্য এসব এলাকায় নেমে আসে অন্ধকার।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে সূর্যগ্রহণ দেখতে জড়ো হওয়া মানুষ উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেন। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা ঘটনাটিকে মহাবিশ্বের বিস্ময় মনে রাখার মতো একটি মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেন।

যেভাবে দেখা গেল মহাজাগতিক দৃশ্য

পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পথ শুরু হয় রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে। এরপর উত্তর মহাসাগর পেরিয়ে এটি আইসল্যান্ডে পৌঁছায়।

যুক্তরাজ্যে উত্তর স্কটল্যান্ডে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে এবং ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আংশিক সূর্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রথম দিকে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও মেঘমুক্ত আকাশে ধীরে ধীরে চাঁদের ছায়া সূর্যকে ঢেকে দিতে শুরু করে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পরিচিত স্থানে অসংখ্য মানুষ এই দৃশ্য দেখতে জড়ো হন।

বিশেষ সূর্যগ্রহণের চশমার সংকট থাকায় কেউ কেউ চালুনির ছিদ্র, সিরিয়ালের বাক্স বা কাগজ ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে গ্রহণ দেখেন।

চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আটকে দেয়, তখন সূর্যগ্রহণ হয়। যুক্তরাজ্যে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী পুরোপুরি একই সরলরেখায় না থাকায় সেখানে আংশিক গ্রহণ দেখা যায়। ১৯৯৯ সালের পর এটি ছিল যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় সূর্যগ্রহণ। কর্নওয়ালে সূর্যের সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে ছিল।

স্পেনে দেখা গেল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ

স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এ করুনা শহরে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে। তখন সেখানে দেখা যায় পূর্ণ সূর্যগ্রহণ।

চিলির বিজ্ঞানী ইয়াসমিন কাত্রিচে হাজার মাইল ভ্রমণ করে স্পেনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখেন। পূর্ণগ্রাসের সময় মানুষের উচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

স্পেনে দুই মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল বা ‘করোনা’ স্পষ্ট দেখা যায়। এ সময় সূর্যের চৌম্বকক্ষেত্রের কারণে তৈরি গোলাপি রঙের গ্যাসের বলয়ও দেখা যায়।

পৃথিবী থেকে সূর্যকে চাঁদের প্রায় একই আকারের দেখা যায়। কারণ সূর্য চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থান করছে। এই বিশেষ সমাপতনের কারণেই পৃথিবী থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পৃথিবী আরও কয়েকটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে যাবে। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এই সময়কে তারা সূর্যগ্রহণের ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে দেখছেন।

তবে যুক্তরাজ্যে ২০৮১ সালের আগে এমন প্রায় ৯৯ শতাংশ ঢাকা সূর্যের দৃশ্য আর দেখা যাবে না। দেশটিতে পরবর্তী পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০৯০ সালে।

আরও পড়ুন