EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে মোদি সরকারকে ফের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ’দের

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে মোদি সরকারকে ফের হুঁশিয়ারি ‘ককরোচ’দের
অ অ

ভারতজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি সরকার ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি বলেছে, সব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে আগামীকাল থেকেই তারা আবার রাজপথে নামবে।

অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন শুরু হয়েছিল ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে। একটি গালিকে কেন্দ্র করেই সংগঠনটির নামকরণ করা হয়। সংগঠনের অন্যতম দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সপ্তাহান্তে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। তখন একে ‘সুসম্পর্কের স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল সংগঠনটি। তবে আন্দোলন স্থগিতের পরই সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের দুই মধ্যস্থতাকারী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার চুক্তি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।

রাঙ্কার দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে শত শত আন্দোলনকারীকে নজরদারিতে রেখে হয়রানি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদেরও দিল্লিতে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংগঠনটির দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে। দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ নতুন কোনো এফআইআর করতে পারবে না। এসব দাবি মানা না হলে তারা আবার আন্দোলনে ফিরবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিজেপি।

এ ছাড়া সমঝোতা বৈঠকে আইনি বিষয়গুলো নিয়ে সরকার যে লিখিত চুক্তিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিও আগামীকালের মধ্যে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত শনিবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর সিজেপি জানায়, আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারে কেন্দ্রীয় সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। সংগঠনটি সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে দেয়। চার সপ্তাহ পর পরবর্তী বৈঠক করার সিদ্ধান্তও হয়।

গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর করা হয়। সিজেপির প্রধান দাবিগুলোর একটি ছিল এসব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা।

সেদিন যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল শুরু হলে দিল্লিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

ঘটনাটি দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ও সংসদেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আজ সুপ্রিম কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানায়, আন্দোলন চললেও পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ সমর্থন করা যায় না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান সুরক্ষিত করেছে বলেও আদালত উল্লেখ করে।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহের পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে সোমবার লোকসভায় বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। এতে অধিবেশন কয়েক দফা ব্যাহত হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন একটি বিলও নিম্নকক্ষে উত্থাপন করে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন