যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির পরীক্ষায় সফল চীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির উন্নয়নে বড় অগ্রগতি অর্জনের দাবি করেছে চীন। সমুদ্রের ওপর স্থাপিত একটি প্ল্যাটফর্মে জালের মাধ্যমে রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পরীক্ষাটি সম্পন্ন করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা এই প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই চীনের এই উদ্যোগ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশের ওয়েনচ্যাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে লং মার্চ–১০বি (Long March-10B) রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ছয় মিনিটের মাথায় রকেটটির বুস্টার ও উপরের ধাপ আলাদা হয়ে যায়। পরে বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে উল্লম্ব পথে ফিরে এসে সমুদ্রে থাকা একটি প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) জানিয়েছে, এটি দেশটির প্রথম সফল কক্ষপথ-উপযোগী রকেট উদ্ধার পরীক্ষা। এর মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাল চীন।
পরীক্ষার সময় রকেটটি একটি উপগ্রহ নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
জালের মাধ্যমে উদ্ধার প্রযুক্তি
প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ফ্যালকন–৯ রকেট যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট প্যাড বা ড্রোন জাহাজে অবতরণ করে, সেখানে লং মার্চ–১০বি রকেটের বুস্টার সমুদ্রে থাকা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ জালে আটকে উদ্ধার করা হয়েছে।
চীনের প্রধান রাষ্ট্রীয় রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকল টেকনোলজি (CALT)-এর বিশেষজ্ঞ চেন মুয়ে বলেন, জালভিত্তিক এই উদ্ধার ব্যবস্থা রকেটের কাঠামো সহজ করতে পারে, ওজন কমাতে পারে এবং বহনক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
লং মার্চ–১০বি রকেটকে স্পেসএক্সের বহুল ব্যবহৃত মাঝারি ক্ষমতার ফ্যালকন–৯ রকেটের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। এটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (লো-আর্থ অরবিট) অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহনের সক্ষমতা রাখে।
মহাকাশ প্রতিযোগিতায় নতুন অধ্যায়
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো কক্ষপথে উৎক্ষেপণের পর ফ্যালকন–৯ রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে স্পেসএক্স বছরে প্রায় ১৫০টি ফ্যালকন–৯ উৎক্ষেপণ করে এবং একই বুস্টার একাধিকবার ব্যবহার করে।
চীন প্রায় এক দশক ধরে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। শুরুতে নিম্ন উচ্চতার পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন থেকে এখন কক্ষপথ-উপযোগী বুস্টার উদ্ধারের পর্যায়ে পৌঁছেছে দেশটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট ব্যবস্থা চালু হলে মহাকাশ উৎক্ষেপণের ব্যয় কমবে এবং চীনের দ্রুত সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
চীনের রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গত বছর দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডস্পেস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করপোরেশনের দুটি পরীক্ষাই রকেট অবতরণ ও উদ্ধার পর্বে সফল হয়নি।
চীনের চন্দ্র অভিযানের জন্য তৈরি করা লং মার্চ–১০ রকেট পরিবারের অংশ এই লং মার্চ–১০বি। ২০৩০ সালের আগেই মানুষকে চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনায় এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ লং মার্চ–১০বি রকেটের উদ্ধার করা বুস্টারটি আবারও একটি উৎক্ষেপণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।