EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

মার্কিন অভিযান শেষের ঘোষণার পর ইরানে বিমান হামলা, দায় স্বীকার করেনি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

মার্কিন অভিযান শেষের ঘোষণার পর ইরানে বিমান হামলা, দায় স্বীকার করেনি কেউ

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণার পরপরই ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে একাধিক অজ্ঞাত বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এসব হামলার দায় কোনো পক্ষই স্বীকার করেনি। ফলে হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর, সিস্তান-বেলুচিস্তান, আহভাজ ও চাবাহারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার খবর প্রকাশ করে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ওই সময় ইরান প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

ইরানের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশকে দায়ী না করলেও দেশটির পার্লামেন্টের এক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে নেপথ্য সহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে আমিরাত কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানে প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মধ্য দিয়ে তাদের দ্বিতীয় দফার সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওই অভিযান শেষ হওয়ার পর মার্কিন বাহিনী আর কোনো হামলা চালায়নি।

অন্যদিকে, ইসরাইলও সাম্প্রতিক এসব হামলার দায় অস্বীকার করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি উঠে আসে। একই সময়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রয়োজন হলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।

পাল্টা হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে

নতুন বিমান হামলার পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও কাতারে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার সময় চার দেশেই সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয় এবং মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও কুয়েতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান কুয়েত সফর করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। কাতার ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত প্রশমনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হামলার নেপথ্যে কারা?

চলমান সংঘাতের মধ্যে এর আগেও ইরানে কয়েকটি অজ্ঞাত বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছিল। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ওই হামলাগুলো চালানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলার পেছনেও কোনো উপসাগরীয় দেশের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার উদ্দেশ্য হতে পারে ইরানকে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলা থেকে বিরত রাখা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আমিরাতকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম শুক্রবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার ইসমাইল কৌসারির বক্তব্য প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাত নেপথ্যে সহযোগিতা করেছে এবং এর জন্য দেশটিকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

যদিও যুদ্ধ চলাকালে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন উত্তেজনা

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান দাবি করছে, প্রণালিটি এখন থেকে তাদের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এই পথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে তেহরানকে ফি দিতে হবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হরমুজকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা এড়িয়ে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যৌথ সামুদ্রিক তথ্য কেন্দ্র (জেএমআইসি) নতুন এক সতর্কবার্তায় ওই রুট ব্যবহার অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথ ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল

আরও পড়ুন