দক্ষিণ ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল, সরানো হলো ১০ হাজার মানুষ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
ছব: সংগৃহীত
তীব্র তাপপ্রবাহের পর এবার ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণ ইউরোপের একাধিক দেশ। ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাজারো দমকলকর্মী, শত শত অগ্নিনির্বাপণ যান ও উড়োজাহাজ কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাস ও নতুন তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি ফ্রান্সের স্পেন সীমান্তবর্তী পিরেনিজ অঞ্চলে। সেখানে দাবানলের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, শুষ্ক আবহাওয়া ও দমকা বাতাসের কারণে প্রায় ৭০০ দমকলকর্মীর আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পাঁচটি প্রশাসনিক এলাকায় দাবানল সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মৌসুমে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেকেই নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুনে বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে যায়।
স্পেনেও দাবানলের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। কাতালোনিয়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লেস গাভারেস-এর বড় অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কাস্তেলন প্রদেশের সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পাঁচ শতাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পর্তুগালের মধ্যাঞ্চলের ভউজিলা এলাকায় কয়েক দিন ধরে চলা দাবানলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দেশটির পাশাপাশি স্পেন ও ইতালি সহায়তা পাঠিয়েছে। যদিও আগুনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবু কিছু এলাকায় এখনো ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা বিভাগ।
গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের থেসালোনিকিতেও দাবানলে দুটি কারখানা পুড়ে গেছে। এর মধ্যে একটি ছিল প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার কারখানা। বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলেও নতুন করে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে শতাধিক দমকলকর্মী ও অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার কারণে ফিনিশিং লাইনের আশপাশে দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেখানে শুধু প্রতিযোগী ও জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ুবিষয়ক গবেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া ও সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ দক্ষিণ ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: রয়টার্স