দোহায় বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, নাকচ করল ইরান
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে দোহায় বৈঠকের ইঙ্গিত, ট্রাম্পের বক্তব্য অস্বীকার ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এ দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কৌশলগত বা কারিগরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
সোমবার (২৯ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার দোহায় দুই দেশের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে বৈঠকে কারা অংশ নেবেন বা কী বিষয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এ সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে দোহায় যাবেন।
এদিকে, আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি কূটনৈতিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দোহায় বৈঠকের প্রস্তুতি রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নে গঠিত কারিগরি দলগুলোর বৈঠকের সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক উত্তেজনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
তবে এসব তথ্য প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে কোনো কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে—এমন খবর সঠিক নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পরও দুই দেশের মধ্যে সংলাপ বন্ধ হয়নি। উভয় পক্ষ আপাতত হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী গারিবাবাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মাসকাটে যৌথ হরমুজ কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী প্রণালিটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে হলেও কোনো দেশ একতরফাভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধ করতে পারে না। তবে ইরান জানিয়েছে, নির্ধারিত নৌপথ এড়িয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ নিয়েও নতুন মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্স ও ওমান যৌথভাবে এ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনার কথা জানালেও ইরান বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মাইন অপসারণের দায়িত্ব কেবল তাদেরই।
সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ নিজেদের অবস্থানও প্রকাশ করছে না। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্য নিশ্চিত করাই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।