‘ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না’, নতুন হামলার পর ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে এমন সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ‘ইরানের আর কোনো অস্তিত্বই না থাকে’।
শনিবার (২৭ জুন) দ্বিতীয় দফার মার্কিন হামলার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্যের সীমা রয়েছে। ইরান বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে এবং পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি লেখেন, “আমরা সফলভাবে যে অভিযান শুরু করেছি, প্রয়োজন হলে তা শেষ করব। আর যদি সেই পরিস্থিতি আসে, তবে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সিরিক শহর, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ এবং কেশম দ্বীপের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। সেন্টকমের দাবি, ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারে আঘাত হানা হয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতের ‘আলি আল সালেম’ বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন পক্ষের দাবি, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘কিকু’-তে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরের একটি কনটেইনার জাহাজেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোর পরই ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল-জাজিরা