কোয়াডের সমালোচনায় ক্ষুব্ধ কিম, পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ৩১ মে ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া নিয়ে গঠিত চার দেশের জোট ‘কোয়াড’। এর জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।
দেশটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে না।
সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এর পরপরই উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন।
মুখপাত্র বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ কখনোই ঘটবে না। তিনি কোয়াডকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একমেরু আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন এবং এর বৈরী মনোভাবের নিন্দা জানান।
পিয়ংইয়ং আরও দাবি করে, কোয়াডের সহযোগিতা জোরদারের এই উদ্যোগ জাপানের পুনঃঅস্ত্রসজ্জা এবং অস্ট্রেলিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া জানায়, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় অটল থাকবে এবং অঞ্চলে যেকোনো জোটগত উত্তেজনার বিরোধিতা করবে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই কোয়াডকে এশিয়ায় ন্যাটোর মতো একটি সামরিক জোটে পরিণত হওয়ার সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে দেখে আসছে এবং সে কারণে নিয়মিতভাবে এই জোটের সমালোচনা করে থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে লক্ষ্য করেই এবার উত্তর কোরিয়ার কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে, যা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আর্টিলারি রকেট এবং এআই-নির্ভর প্রিসিশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষা শেষে কিম জং উন বলেন, এআই-চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্পেশাল মিশন ওয়ারহেড’ প্রকল্পের আওতায় এসব অস্ত্রের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের কৌশলগত ও প্রচলিত অস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক সক্ষমতার পাশাপাশি এআই-নির্ভর অস্ত্র প্রযুক্তিতে অগ্রগতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক শক্তিকে আরও জোরদার করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।