EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে?

বিজেপির অগ্রযাত্রা রুখতে বাম, অতিবাম ও জাতীয় শক্তিগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, তিনি এখন ‘শত্রুর শত্রুকেই’ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

পশ্চিমবঙ্গে মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন কোন পথে?
অ অ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী যেদিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিলেন, সেদিন বিকেলেই এক মহাকাব্যিক দৃশ্য দেখল রাজ্য রাজনীতি। ব্রিগেড থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবনে দাঁড়িয়ে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাক দিলেন এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের।

বিজেপির অগ্রযাত্রা রুখতে বাম, অতিবাম ও জাতীয় শক্তিগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, তিনি এখন ‘শত্রুর শত্রুকেই’ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। 

২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে যিনি ইতিহাস গড়েছিলেন, ১৫ বছর পর তার এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়া হিসেবে। নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে মমতা যখন নতুন করে ঘর গোছানোর চেষ্টা করছেন, তখন প্রশ্ন উঠেছে—৭১ বছর বয়সী এই লড়াকু নেত্রী কি পারবেন আবারও ঘুরে দাঁড়াতে? নাকি তৃণমূলের রাজনীতির ‘অস্তরাগ’ ঘনিয়ে এসেছে?

যাদবপুর থেকে উত্থানের সেই ইতিহাস

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যাত্রা পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। ১৯৭৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে কংগ্রেসের রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। তবে জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রকৃত উত্থান ১৯৮৪ সালে। লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুরের মতো বাম দুর্গে প্রবীণ কমিউনিস্ট নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি চমক সৃষ্টি করেছিলেন। সেই থেকে শুরু হওয়া আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা তাকে রাজীব গান্ধীর প্রিয়ভাজন করে তোলে। মাঝপথে পরাজয় এলেও ১৯৯১ সাল থেকে টানা পাঁচবার লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার দীর্ঘ সংসদীয় জীবন ছিল প্রতিবাদ আর লড়াকু মেজাজে ভরপুর।

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ও ক্ষমতার চূড়া

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন মমতার জীবনের অন্যতম বড় বাজি ছিল। ২০০৫ সাল পরবর্তী সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন তাকে সাধারণ মানুষের ‘দিদি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন নিহতের ঘটনা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয়। সেই আন্দোলনের ওপর ভর করেই ২০১১ সালে ৩৪ বছরের অপরাজিত বাম শাসনের অবসান ঘটান তিনি। ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখেন মমতা।

প্রশাসক মমতার সীমাবদ্ধতা ও দুর্নীতির ছায়া

গত ১৫ বছরের শাসনামলে মমতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার দলের বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড়সমান দুর্নীতির অভিযোগ। সারদা, রোজভ্যালিকাণ্ড থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি—একের পর এক কেলেঙ্কারি তার ‘সততার ইমেজ’কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদিও তিনি বারবার দাবি করেছেন, ‘ভুল করলে চড় মারুন, কিন্তু চোর বলবেন না’, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রভাব পড়েছে সুদূরপ্রসারী। 

সমালোচকদের মতে, সফল বিরোধী নেত্রী হলেও প্রশাসক হিসেবে রাজ্যে বড় শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মমতা উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেননি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বলে এই রাজ্যের মানুষ একবার কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেললে তাদের আর ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেয় না। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী সেই রীতির বিরল ব্যতিক্রম ঘটাতে পারবেন কি না, সেটা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবে তার নিজের ওপরেই। সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন