ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া এবং আসক্তিমূলক ডিজাইনের অভিযোগে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মেটা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে চলমান একটি মামলার রায় ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ভবিষ্যৎ কার্যপদ্ধতি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল অভিযোগ ও জনস্বার্থের ঝুঁকি
নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটা সচেতনভাবে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে কিশোর-কিশোরীরা দীর্ঘ সময় সেখানে মগ্ন থাকে। এর পাশাপাশি শিশুদের যৌন শোষণসহ বিভিন্ন অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রতিষ্ঠানটির চরম অবহেলার বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।
আদালত এখন খতিয়ে দেখছে মেটার এসব কার্যক্রম ‘পাবলিক নিউসেন্স’ বা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কি না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের অ্যালগরিদম পরিবর্তন, বাধ্যতামূলক বয়স যাচাই পদ্ধতি চালু এবং আসক্তিমূলক ফিচারগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে।
বিশাল অঙ্কের জরিমানা ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্প
মামলার প্রথম ধাপে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মেটাকে ইতোমধ্যে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ধাপে এই লড়াই আরও কঠিন রূপ নিচ্ছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ এখন প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। এই বিশাল অর্থ দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মূলত কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করবে।
মেটার অবস্থান ও পাল্টা সতর্কতা
মেটা অবশ্য এসব অভিযোগকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়—এমন কোনো অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, আদালতের প্রস্তাবিত অনেক পরিবর্তন প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। এমন কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্তও নিতে পারে মেটা।
বৈশ্বিক প্রভাব ও মাইলফলক
কেবল নিউ মেক্সিকো নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আরও ৪০টি অঙ্গরাজ্য এবং ১৩০০টিরও বেশি স্কুল মেটার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছে। ফলে এই মামলার রায় বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির বা মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স