EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

কেন লড়ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান?

পাকিস্তানের প্রধান অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে।

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম

কেন লড়ছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং পারস্পরিক দোষারোপের পর অবশেষে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব লিল হক’।

আলজাজিরার তথ্যমতে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে এই হামলা শুরু হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তালেবান প্রশাসনের প্রতি ইসলামাবাদের ‘ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে’। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, এই অভিযানে তালেবানের ব্রিগেড সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, হামলায় অন্তত ২৫০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, তালেবান সরকার এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, তাদের মাত্র ৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। উল্টো তারা দাবি করেছে, পাল্টা হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা এবং দুটি ঘাঁটি দখল করা হয়েছে।

দ্বন্দ্বের মূলে যা রয়েছে

এই সংঘাতের মূল কারণ ২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ডুরান্ড লাইন’ সীমান্ত। আফগানিস্তান ঐতিহাসিক কারণেই এই সীমান্তকে স্বীকৃতি দেয় না। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে ডুরান্ড লাইনে অন্তত ৭৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের প্রধান অভিযোগ, আফগান তালেবান তাদের দেশের নিষিদ্ধ সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)-কে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে নাশকতা চালাচ্ছে।

রয়টার্স ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)- এর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক সক্ষমতায় পাকিস্তান আফগানিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। পাকিস্তানের প্রায় পৌনে ৭ লাখ সৈন্যের বিপরীতে তালেবানের যোদ্ধা রয়েছে পৌনে ২ লাখের মতো। সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো আকাশপথে; পাকিস্তানের ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টি হেলিকপ্টার রয়েছে, যেখানে তালেবানের কার্যকর কোনো বিমান বাহিনী নেই।

তবে গবেষক আবদুল বাসিদের মতে, তালেবানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হলেও তারা গেরিলা যুদ্ধে অত্যন্ত দক্ষ। তারা আত্মঘাতী হামলা ও ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। বিশেষজ্ঞ আমিন সইকাল একে ‘অত্যন্ত গুরুতর অগ্রগতি’ বলে অভিহিত করেছেন, যা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের জনগণের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এই ঘটনাকে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে ভারত। অন্যদিকে, জাতিসংঘ ও ইরান অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া পরিস্থিতির ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আফগান তালেবান যদি টিটিপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। যদিও পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র যুদ্ধে পাকিস্তানের পাল্লা ভারী, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সীমান্ত সংঘর্ষ ও গেরিলা হামলা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

আরও পড়ুন