ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখবে যুক্তরাষ্ট্র
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ‘অনির্দিষ্টকালের’ জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সেটিও ওয়াশিংটনই নির্ধারণ করবে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানায়, বৈশ্বিক বাজারে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসব তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রথমে বিশ্বস্বীকৃত ব্যাংকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকা একটি হিসাবে জমা হবে।
বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজস্ব বিবেচনায় এই অর্থ আমেরিকান জনগণ এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যয় করবে। প্রাথমিক ধাপে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে, যা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজেই তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন, নতুন এই তেল চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে ভেনেজুয়েলা শুধু যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্যই কিনবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, এসব পণ্যের মধ্যে থাকবে আমেরিকান কৃষিপণ্য, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ গ্রিড ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন গত শনিবার ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
যুক্তরাষ্ট্র আরও জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলাকে কার্যত ‘পরিচালনার’ পরিকল্পনা করছে এবং দেশটির বিশাল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, কারাকাস ওয়াশিংটনের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আংশিক নৌ অবরোধ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেল পরিবহনের অভিযোগে একাধিক জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উত্তর আটলান্টিকে থাকা রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজও রয়েছে।
এই জব্দের ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যাপিটল হিলে আইনপ্রণেতাদের ভেনেজুয়েলা বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করছিলেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশারের মতে, রিপাবলিকানদের বড় অংশ ট্রাম্পের পদক্ষেপে সমর্থন জানালেও ডেমোক্র্যাটরা একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। এসব প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে—এই অভিযান কতদিন চলবে, এতে কত ব্যয় হবে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে কি না এবং এর জবাবে দেশটির প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিফিংটি তার প্রত্যাশার চেয়েও খারাপ ছিল। তার অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের চেয়ে তেল কোম্পানির কর্মকর্তারাই বেশি জানেন। এ কারণে তিনি দ্রুত প্রকাশ্য সিনেট শুনানির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের চাপ প্রয়োগ কৌশলের অংশ। নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও তিনি বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। [সূত্র: আল-জাজিরা]