যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার পর হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন রবিবার (৪ জানুয়ারি) দেশটির ‘যুদ্ধ প্রতিরোধ সক্ষমতা’ যাচাইয়ের লক্ষ্যে পরিচালিত এক ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া নিজে উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সময় রবিবার ভোরে পরিচালিত এই মহড়ায় পিয়ংইয়ংয়ের রিওকফো জেলা থেকে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে জাপান সাগরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পরীক্ষাটিকে দেশের কৌশলগত অস্ত্রের কার্যকরী মূল্যায়ন হিসেবে তুলে ধরে।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলার ঘটনার সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সরাসরি যোগসূত্র দেখানো হয়নি, তবে সরকারি বার্তায় দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। উৎক্ষেপণের সময়ের কাছাকাছি উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে ‘সার্বভৌমত্বের ওপর সবচেয়ে গুরুতর আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনের ‘উচ্ছৃঙ্খল ও নৃশংস চরিত্রের’ প্রমাণ বলে নিন্দা জানায়।
উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণের সময় কিম জং-উন বলেন, একটি ‘শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা’ বজায় রাখা ও সম্প্রসারণের জন্য এই মহড়া একটি “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কাজ” কেসিএনএ-এর উদ্ধৃতিতে তিনি বলেন, “আমাদের কার্যক্রম স্পষ্টভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ সক্ষমতাকে ধাপে ধাপে উচ্চমাত্রায় উন্নীত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক সংকট ও জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই এর প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।”
কিম জং-উন নতুন বছরের ‘প্রথম যুদ্ধ মহড়ার সূচনা’ করার জন্য উৎক্ষেপণ ইউনিটের প্রশংসা করেন এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় একটি “নির্ভরযোগ্য ঢাল” হিসেবে উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর কোরিয়া দাবি করে আসছে, তাদের অস্ত্র কর্মসূচি আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটি আরও উন্নত হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ সামরিক মহড়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা বলে অভিযুক্ত করে আসছে এবং এগুলোকে ‘এশীয় ন্যাটো’ গঠনের উদ্যোগ বলেও সমালোচনা করছে।
সূত্র: আরটি