EN ☀️
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

আরএসএফের ড্রোন হামলায় সুদানে শিশুসহ নিহত ৭৯

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি হাসপাতাল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে

ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক

প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৫৮ পিএম

আরএসএফের ড্রোন হামলায় সুদানে শিশুসহ নিহত ৭৯
অ অ

উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুর্দোফান রাজ্যে আধাসামরিক র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পরিচালিত ড্রোন হামলায় অন্তত ৭৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ জনই শিশু। এ ছাড়া আহত হন আরও ৩৮ জন।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) এমন তথ্য জানিয়েছে সুদানি কর্তৃপক্ষ। 

দক্ষিণ কুর্দোফান রাজ্য সরকারের তথ্যানুসারে, নিহতদের মধ্যে চারজন নারীও আছেন। বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুদানের কলোজি শহরে এই হামলায় একটি ড্রোন চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি কিন্ডারগার্টেন, একটি হাসপাতাল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে। রাজ্য সরকার এ ঘটনাকে আরএসএফ-সমর্থিত সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থের ‘নৃশংস অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রাথমিকভাবে আটজন নিহতের তথ্য পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯-এ।

রাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আবেদন জানায়—এ ধরনের লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে, আরএসএফকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করতে এবং তাদের মিত্রদেরও এসব অমানবিক অপরাধের দায়ে জবাবদিহির আওতায় আনতে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ হামলাটিকে ‘শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ উদাহরণ’ বলে নিন্দা জানায়। এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, নিহতদের মধ্যে ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী অন্তত ১০ জনের বেশি শিশু রয়েছে।

ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, শিশুরা যেন কখনোই যুদ্ধের মূল্য না দেয়। সব পক্ষকে তিনি অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান এবং যারা সহায়তার প্রয়োজন তাদের কাছে মানবিক সাহায্য নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টির অনুরোধ করেন।

ইউনিসেফ আরও জানায়, নভেম্বরের শুরু থেকে কুর্দোফান অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত এক মাসে উত্তর ও দক্ষিণ কুর্দোফান থেকে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে পালিয়ে গেছে।

হামলা সম্পর্কে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে আরএসএফ পশ্চিমাঞ্চলের দারফুরের পাঁচটি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তর দারফুরের কিছু অংশ এখনো সেনাবাহিনীর দখলে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী দেশের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও কেন্দ্রাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকাসহ মোট ১৩টি রাজ্যে প্রভাব ধরে রেখেছে, যার মধ্যে রাজধানী খার্তুমও রয়েছে।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

আরও পড়ুন