আসিম মুনির হলেন প্রতিরক্ষা প্রধান, পেলেন পরমাণু ভান্ডারের চাবি
প্রেসিডেন্ট জারদারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আহমাদ বাবর সিধুর মেয়াদও দুই বছর বাড়িয়েছেন।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এর মাধ্যমে মুনির দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হলেন এবং কার্যত পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের ভান্ডার দেখভালের চাবি তাঁর হাতে গেল।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে চিফ অব আর্মি স্টাফ (সিওএএস) ও চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ)- উভয় পদে নিয়োগের যে সুপারিশ করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জারদারি তা অনুমোদন করেছেন।
এনডিটিভি লিখেছে, মুনিরের হাতে আরও ক্ষমতা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দ্বিধান্বিত, এমন গুঞ্জনের মধ্যেই তাকে সিডিএফ পদে বসানো হল।
এ পদের মাধ্যমে মুনির পাকিস্তানের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড দেখভালের ক্ষমতা পেলেন; এই কমান্ড দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। এর মাধ্যমে মুনির দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠলেন এবং তার হাতেই গেল পাকিস্তানের পরমাণু ভান্ডারের চাবি।
দেশের প্রথম প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান নিয়োগের বিষয়টি গত সপ্তাহেই জানানোর কথা ছিল শেহ শরিফ সরকারের। সেদিনই সেনাপ্রধান পদে মুনিরের তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কমান্ডকে আরও কেন্দ্রীভূত করতে গত মাসে পাস হওয়া পাকিস্তানের ২৭তম সংশোধনীতে এই সিডিএফ বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান পদটি সৃষ্টি করা হয়।
প্রেসিডেন্ট জারদারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আহমাদ বাবর সিধুর মেয়াদও দুই বছর বাড়িয়েছেন, যা আগামী বছরের ১৯ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, সৈয়দ আসিম মুনির চলতি বছর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ফিল্ড মার্শাল খেতাব পেয়েছেন। এর আগে ১৯৬৫ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল আইয়ুব খানকে ওই খেতাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সেনাপ্রধান পদে তিন বছরের মেয়াদ গত সপ্তাহেই শেষ হয়েছিল, তবে নতুন পদে নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা আরও সুসংহত হলো।
