বন্ধ পাটকলের চাকা ঘোরাচ্ছে আবুল খায়ের, কর্মসংস্থান হবে ১৫ হাজার মানুষের
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল ‘সোনালি আঁশ’ পাট। সময়ের পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্পের জৌলুশ অনেকটাই হারিয়ে যায়। আদমজীর পর বাওয়ানী ও আমিন জুট মিলসহ সরকারি খাতের বেশ কয়েকটি পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে নানা প্রতিকূলতা ও সংকটে বেসরকারি খাতেরও একের পর এক পাটকল উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এতে একদিকে পাটের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা কমেছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন হাজারো শ্রমিক।
বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পকারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের বন্ধ পাটকল পুনরুজ্জীবনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় সচল করার কৌশল নিয়েছে গ্রুপটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরই মধ্যে ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট মিল ও দামাশি জুট মিল, খুলনার আহিয়ান জুট মিল, কুষ্টিয়ার নাসির জুট মিল এবং মাগুরার এ আর জুট মিলে আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ও রুগ্ণ হয়ে পড়া এসব কারখানায় এখন পাটের সুতা উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত পাটের সুতা ইতোমধ্যে তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে।
আবুল খায়ের গ্রুপ জানিয়েছে, এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রপ্তানি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি খাতের আরও তিন থেকে চারটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।
আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, “পাটপণ্যের ব্যবসা মূলধননির্ভর। দেশে বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে আমরা বিদ্যমান বন্ধ কারখানার অবকাঠামো ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে একদিকে বন্ধ শিল্প পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”
বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পাটের গুণগত মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতেই আবুল খায়ের গ্রুপ পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য উচ্চমূল্যের ভ্যালু-অ্যাডেড পাটপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানো।”
শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, বন্ধ পাটকল পুনরুজ্জীবনের এই উদ্যোগ শুধু শিল্পকারখানা চালুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা এবং সর্বোপরি দেশের পাটচাষিদের জন্য একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “বন্ধ কারখানাকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের সোনালি আঁশকে আবারও বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া—এই লক্ষ্যেই আবুল খায়ের গ্রুপ পাটশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পথে এগোচ্ছে।”