EN ☀️
×

Follow Us

বাণিজ্য

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

পোশাক খাতের সংকট ও নীতিগত সুপারিশ নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করল বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাতে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদ।

অ অ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই সাক্ষাতে তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার নীতিগত বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতে বিজিএমইএ নেতারা রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালকেরা।

আলোচনায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল পোশাক শিল্পে সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিজিএমইএ সভাপতি দেশীয় শিল্প ও ব্যবসার প্রসারে সরকারের নানা পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিতকরণ, বন্ধ কারখানা চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা, বন্ডেড কাঁচামাল সংগ্রহ ও রপ্তানির পথ সুগমকরণ এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্তকে তিনি সরকারের দূরদর্শিতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতে বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে বেশিরভাগ কারখানা সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদনে বাধ্য হচ্ছে, যা রপ্তানি অর্ডার হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও মজুরি সমন্বয়ে গত তিন বছরে উৎপাদন খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি ১.৬৪ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১.৯২ শতাংশ কমেছে, আর মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমায় নতুন বিনিয়োগও স্থবির হয়ে পড়েছে। উচ্চ ব্যয় ও অর্ডার সংকটের মুখে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই সংকট উত্তরণে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে কয়েকটি নীতিগত সুপারিশ পেশ করা হয়। জ্বালানি সংকট নিরসনে দ্রুত অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, আমদানি পর্যায়ে শুল্ক-কর প্রত্যাহার এবং ছোট-মাঝারি কারখানায় অগ্রাধিকারভিত্তিতে গ্যাস সংযোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন, বিমানবন্দরে কার্গো শেড সম্প্রসারণ এবং বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি বন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করার সুপারিশও করা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণের সুদহার কমানো, পোশাক খাতের জন্য পোস্ট-শিপমেন্ট ফাইন্যান্সিং স্কিম চালু এবং জিটিএফ ও টিডিএফ তহবিলে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। কাস্টমস বন্ড অডিট প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ফের চালুর সুপারিশও করা হয়েছে। এলডিসি-উত্তর বাণিজ্য সুরক্ষায় ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে এফটিএ-পিটিএ সম্পাদনের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথাও বলা হয়। শ্রমিক কল্যাণে গাজীপুরে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ এবং ঝুট ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশও করে বিজিএমইএ।

রাষ্ট্রপতি বিজিএমইএ নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সাময়িক প্রতিকূলতা কাটিয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আরও পড়ুন