EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তরে জাতীয় হ্যাকাথনের ঘোষণা

এক মাস চলবে নিবন্ধন, নির্বাচিত দল নিয়ে তিন দিনের বুটক্যাম্প

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তরে জাতীয় হ্যাকাথনের ঘোষণা
অ অ

দেশের স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় হ্যাকাথনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের নতুন ধারণা কাজে লাগাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি মানুষের সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার তৈরি, সুরক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহারের পথ তৈরি করতে চায় সরকার।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশীদারত্বে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

হ্যাকাথনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করলে অনেকে আলাদাভাবে বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আসেন। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগগুলো আলাদা গণ্ডিতে আটকে থাকে। পরে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল ব্যবস্থা যেন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই হ্যাকাথনের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সবাইকে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি বিশাল স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একজন নাগরিক যতবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন, ওষুধ কিনবেন কিংবা পরীক্ষাগারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন, তার চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সেখানে যুক্ত হতে থাকবে।

এই বিপুল তথ্যভান্ডার স্বাস্থ্য গবেষণার বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোও এ ধরনের তথ্যভান্ডারে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন লার্নিং মডেলে এসব তথ্য ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণা যেন হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস হ্যাকাথনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন চলবে। দেশের সব এলাকার তরুণ উদ্ভাবকদের স্বাস্থ্যসেবায় ডিজিটাল সমাধানের ধারণা নিয়ে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিবন্ধন ও বাছাইপর্ব শেষে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে ঢাকায় তিন দিনের একটি নিবিড় বুটক্যাম্প হবে। সেখানে দেশি ও বিদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তরুণদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। এর মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক ধারণাগুলোকে টেকসই ও কার্যকর সমাধানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে তদবির বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ প্রক্রিয়ায় ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো তরুণের সেরা উদ্ভাবনী ধারণাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আশিক চৌধুরী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাজারের আকার আনুমানিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে এ বাজারের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটাল হলে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হলে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. রাজেশ নারওয়াল, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক দিল আফরোজা, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালয় আহমাদজাই, এডিএন টেলিকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননুর এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন ইন্টারস্পিড অ্যাডভার্টাইজিং লিমিটেডের গ্রুপ ডিরেক্টর আদনান করিম এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানাল মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন