স্কুলের কাছে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে শিশুরা
ডেইলি সান রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ১০টি বড় শহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০টির মধ্যে ৯টির আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে সহজেই খাবার কিনতে পারে শিক্ষার্থীরা। ফলে শিশু-কিশোরদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের আশপাশে থাকা স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট ও মিষ্টির দোকানে সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া যায়। পকেটের টাকা দিয়ে খাবার বা পানীয় কেনার সময় শিশুরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনএলটাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে।
নেদারল্যান্ডসের পুষ্টিবিষয়ক সংস্থা ভোডিংসসেন্ট্রামের লিসবেথ ভেলেমা দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনওএসকে বলেন, বিপুলসংখ্যক স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা উদ্বেগজনক। তার মতে, চিনিযুক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবারের তুলনায় স্বাস্থ্যকর খাবার শিশুদের কাছে কম সুস্বাদু মনে হতে পারে। ফলে তাদের পক্ষে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের কেনা খাবারের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের বিরতিতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সসেজ রোল, মিষ্টি, চিপস ও কোমল পানীয় কিনতে পারে।
বর্তমানে স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে স্থানীয় সরকারগুলো এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। তাদের মতে, এ ধরনের খাবার বিক্রিতে কঠোর নিয়ম চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সুপারমার্কেটগুলোকে শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে আমস্টারডাম ইউএমসির এক গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে আসে। এতে দেখা যায়, মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৪ শতাংশের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে।
এর আগে ১৪টি পৌরসভা স্কুলের আশপাশে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল।
আমস্টারডাম, রটারডাম, দ্য হেগ, উট্রেখট, আলমেরে, ডেন বশ, লেইডেন, ব্রেদা, গ্রোনিঙ্গেন ও টিলবার্গ—এই ১০টি শহরের খাবারের দোকান গবেষণার আওতায় ছিল। সব শহরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাধান্য দেখা গেছে।
সূত্র: এনএলটাইমস