EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে কলা, কখন খাবেন—সকাল না রাতে?

ডেইলি সান রিপোর্ট, লাইফস্টাইল

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৮ এএম

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে কলা, কখন খাবেন—সকাল না রাতে?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

কলা শুধু সুস্বাদু ফল নয়, এতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন ও নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম ও ফাইবার হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

তবে কলা খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। সকালে খাওয়া ভালো, নাকি রাতে? খালি পেটে কলা খাওয়া যায় কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা ধারণা। আসলে কোন সময়ে কলা খাবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর।

সকালে কলা খাওয়া যায়

সকালের খাবারের সঙ্গে কলা রাখা যেতে পারে। কলায় থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। তবে শুধু খালি পেটে একটি কলা খাওয়ার বদলে ওটস, দই, বাদাম বা ডিমের মতো প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারের সঙ্গে খেলে খাবারটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।

খালি পেটে কলা খাওয়া একেবারেই যাবে না—এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে যাদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাদের একসঙ্গে অনেক বেশি কলা না খাওয়াই ভালো।

ব্যায়ামের আগে বা পরে

শরীরচর্চার আগে বা পরেও কলা খাওয়া যেতে পারে। ব্যায়ামের প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট আগে একটি কলা খেলে এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে দ্রুত শক্তি দিতে পারে।

অন্যদিকে ব্যায়ামের পর কলা খেলে শরীরের শক্তির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়ামও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিকেলে ভালো নাশতা হতে পারে

বিকেলে ক্ষুধা লাগলে ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। এটি সহজে বহন করা যায় এবং দ্রুত খাওয়াও সম্ভব।

তবে শুধু কলার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বাদাম, দই বা অন্য পুষ্টিকর খাবারের সঙ্গে খেলে নাশতাটি আরও পরিপূর্ণ হতে পারে।

রাতে কলা খাওয়া যাবে?

রাতে কলা খাওয়া নিষেধ—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। অনেকেই রাতে কলা খেয়ে থাকেন। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বিভিন্ন কাজে ভূমিকা রাখে।

তবে রাতে কলা খাওয়ার পর যদি কারও অম্বল, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা হয়, তাহলে রাতে না খাওয়াই ভালো। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবারের সময় ঠিক করা যেতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণে সতর্ক থাকুন

ডায়াবেটিস থাকলেও কলা খাওয়া যায়। তবে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। খুব বেশি পাকা কলায় প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা ভালো।

কিডনির রোগ থাকলে সতর্কতা জরুরি

কলা পটাশিয়ামের ভালো উৎস। তবে যাদের গুরুতর কিডনি রোগ রয়েছে, তাদের শরীরে পটাশিয়াম জমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। অতিরিক্ত পটাশিয়াম রক্তে বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই কিডনির সমস্যা থাকলে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, কলা খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ‘সেরা সময়’ নেই। সকালে, ব্যায়ামের আগে বা পরে কিংবা বিকেলে—পরিস্থিতি অনুযায়ী কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে সুষম খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন