EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

পাইলসের যন্ত্রণায় ভুগছেন? আজই এড়িয়ে চলুন এই ৭ খাবার

আল-আমিন বিন আলী

আল-আমিন বিন আলী

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

পাইলসের যন্ত্রণায় ভুগছেন? আজই এড়িয়ে চলুন এই ৭ খাবার

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

অ অ

পাইলস বা অর্শের সমস্যা বেশ যন্ত্রণাদায়ক। মলদ্বারের ভেতর বা বাইরের শিরা ফুলে গেলে এ সমস্যা হয়। মলত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালা ও রক্তপাত হতে পারে। অস্বস্তিও বাড়ে।

অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের সমস্যা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শক্ত পায়খানা মলদ্বারের ওপর চাপ তৈরি করে। এতে ব্যথা ও রক্তপাত বাড়তে পারে।

তাই পাইলসের সমস্যা থাকলে খাবারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কিছু খাবার এড়িয়ে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

১. অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার

লাল বা কাঁচা মরিচ বেশি দেওয়া খাবার পাইলসের সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এতে মলত্যাগের সময় জ্বালা ও ব্যথা বেশি অনুভূত হতে পারে।

২. ময়দা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার

পাউরুটি, পরোটা, বিস্কুট, নুডলস, মোমো ও ফাস্টফুডে সাধারণত আঁশ কম থাকে। এসব খাবার বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে মল শক্ত হয়ে পাইলসের সমস্যা আরও বাড়াতে পারে।


৩. অতিরিক্ত লাল মাংস

খাসি বা পাঁঠার মাংসের মতো লাল মাংসে আঁশ নেই। বেশি পরিমাণে খেলে খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি হতে পারে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পাইলসের সমস্যা থাকলে লাল মাংস কম খাওয়া ভালো।

৪. কাঁচা কলা ও অতিরিক্ত নোনতা খাবার

কাঁচা কলা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মল শক্ত করতে পারে। একইভাবে চিপস, চানাচুরসহ অতিরিক্ত লবণযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও কম খাওয়া উচিত। এসব খাবার খাদ্যতালিকায় বেশি থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে।


৫. চা, কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়

অতিরিক্ত চা বা কফি পান করলে পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস ব্যাহত হতে পারে। শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে মলত্যাগের সময় পাইলসের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

৬. অ্যালকোহল ও ধূমপান

অ্যালকোহল হজমপ্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ধূমপানও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাইলসের সমস্যা থাকলে এসব এড়িয়ে চলা ভালো।

৭. বেশি চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার

চিজ, মাখন ও ফুল-ক্রিম দুধ বেশি খেলে কারও কারও গ্যাস, পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এসব খাবার হজমে সমস্যা হলে পাইলসের সময় এগুলো কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

কী খাবেন

পাইলসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া জরুরি। খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ওটস, ইসবগুলের ভুসি, ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত ও মিষ্টি আলু রাখা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে মল নরম রাখতে সহায়তা করে। টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবারও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

সিটজ বাথেও মিলতে পারে আরাম

পাইলসের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে ইষদুষ্ণ পানিতে কিছুক্ষণ বসে থাকার পদ্ধতিকে সিটজ বাথ বলা হয়। দিনে এক থেকে দুইবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট ইষদুষ্ণ পানিতে বসে থাকা যেতে পারে।

তবে পাইলসের চিকিৎসা শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করে না। অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরও পড়ুন