ভ্যাকসিন-বায়োসিমিলারে স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশ, আসছে জাতীয় কৌশল
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভ্যাকসিন ও বায়োসিমিলার উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিতে দ্রুত একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বিকাশের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চমানের কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন: বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্স এ আয়োজন করে। সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।
ড. এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন সময় এসেছে এই শিল্পকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার।
তিনি বলেন, বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতকে শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হবে না। এটিকে জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বায়ো-ইকোনমির বিকাশে এ খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, সরকার শুধু সাধারণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে নজর দিচ্ছে না; বিজ্ঞান ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চমানের কর্মসংস্থান তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বায়োসিমিলার নিয়ে দেশের গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তরুণ গবেষকদের সুযোগ তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অংশীজনদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাত সমন্বিতভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন আইসিডিডিআরবির প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, ডিজিডিএ পরিচালক নাঈম গোলদার, জেনেক্স হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুনিয়া আমিন, সাদাফ সাজ, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহেল রানা প্রমুখ।
