EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

আর পরিকল্পনা নয়, জলবায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই বাস্তবায়নের সময়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্যারিসে উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে বিশেষ স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের দাবি

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম

আর পরিকল্পনা নয়, জলবায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই বাস্তবায়নের সময়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অ অ

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব থেকে মানবতা ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আর কালক্ষেপণ না করে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘অনেক পরিকল্পনা ও আলোচনা হয়েছে। এখন আর শুধু ধারণা বা প্রতিশ্রুতির সময় নয়। মানুষকে বাঁচাতে বাস্তব কাজ শুরু করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘অ্যালায়েন্স ফর ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাকশনস অন ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ (ATACH)’-এর উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও এটিএটিএইচের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতে ফ্রান্সের তাপপ্রবাহে প্রাণহানি এবং ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কক্সবাজারসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। লবণাক্ততা ও দূষণের কারণে অনেক স্থানের পানি দৈনন্দিন ব্যবহারেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় গভীর নলকূপ থেকেও পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। এসব দেশে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। এ বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ফর হেলথ’ নামে বিশেষ স্বাস্থ্য তহবিল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অনেক দেশেই এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে কয়লাভিত্তিক ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জ্বালানি ও পানি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু নীতিগত আলোচনা নয়, মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে এবং ‘স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (HNAP) ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। এ পরিকল্পনায় ডেঙ্গুসহ বাহকবাহিত রোগ, পানিবাহিত রোগ, তাপপ্রবাহ, বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতা, অপুষ্টি, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগের সামাজিক প্রভাবকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সভায় নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য, কল্যাণ ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল অনিতা ভ্যান ডে আন্দে, ফিলিপাইনের স্বাস্থ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ড. গ্লোরিয়া জে. বালবোয়া এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, ইউনিসেফের আমন্ত্রণে ২১ জুন ডেনমার্ক সফরে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমন্ত্রণে ২৪ জুন প্যারিসে পৌঁছান তিনি। আগামী ২৭ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন