EN ☀️
×

Follow Us

স্বাস্থ্য

পেটের ব্যথা অবহেলা নয়: কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ জানুন

বাংলাদেশের জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট ক্যান্সার রোগীর প্রায় ১৯.২ শতাংশই পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত, যার বড় অংশ কোলন ক্যান্সার।

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৮ এএম

পেটের ব্যথা অবহেলা নয়: কোলন ক্যান্সারের লক্ষণ জানুন
অ অ

কোলন বা কোলোরেকটাল ক্যান্সারকে দীর্ঘদিন ধরেই বয়স্কদের রোগ হিসেবে ধরা হতো। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও পরিসংখ্যান বলছে, এই ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। অনিয়মিত জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে কম বয়সীদের মধ্যেও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস গ্রহণ এবং খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের ঘাটতি কোলন ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। পাশাপাশি স্থূলতা, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের একটি জার্নালে ২০১২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে হাই কমোড ব্যবহারও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তেহরানের ১০০ জন কোলন ক্যান্সার রোগীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা যায়, স্বাভাবিক স্কোয়াটিং ভঙ্গির পরিবর্তে বসে মলত্যাগ করলে অন্ত্র পুরোপুরি খালি না হওয়ার প্রবণতা থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে কোলনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

নারী ও পুরুষ উভয়েরই ঝুঁকি

কোলন ক্যান্সার নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো—এর উপসর্গ অনেক সময় মাসিকজনিত ব্যথার সঙ্গে মিল থাকায় বিষয়টি অবহেলিত হয়। ফলে রোগটি দেরিতে ধরা পড়ে এবং তখন তা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

প্রাথমিক লক্ষণ

কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো—

* নিয়মিত ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য

* মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত

* রক্তাক্ত বা কালো রঙের মল

* পেট ব্যথা বা অস্বস্তি

* অকারণে ওজন কমে যাওয়া

* অতিরিক্ত দুর্বলতা ও ক্লান্তি

* পেট সবসময় ভরা ভরা অনুভূত হওয়া

গুরুতর পর্যায়ের লক্ষণ

রোগটি অগ্রসর হলে দেখা দিতে পারে—

* লিম্ফ নোডে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া

* লিভারসহ শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সার ছড়ানো

* কোলন ও অন্ত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের ক্ষেত্রে কোলন ক্যান্সার শনাক্তের গড় বয়স ৭২ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৬৮ বছর। তবে এর আগেও বহু মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ৫৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের হার প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট ক্যান্সার রোগীর প্রায় ১৯.২ শতাংশই পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সারে আক্রান্ত, যার বড় অংশ কোলন ক্যান্সার।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

উল্লিখিত লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের পরিবারে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির সুপারিশ অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়স থেকে নিয়মিত কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করা উচিত। উচ্চঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও আগেই স্ক্রিনিং প্রয়োজন হতে পারে।

স্ক্রিনিং কেন জরুরি

স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব। কোলনে সাধারণত ‘পলিপ’ নামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে ক্যান্সারের সূচনা হয়। মল পরীক্ষা, কোলনোস্কপি কিংবা সিগময়েডোস্কপির মতো পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সারে রূপ নেওয়ার আগেই এসব পলিপ শনাক্ত ও অপসারণ করা যায়। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব হয়।

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিগুলো

যেসব কারণ কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়—

* অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা

* নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব

* লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খাওয়া

* শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি

* ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ

* জেনেটিক সমস্যা, যেমন লিঞ্চ সিনড্রোম

বিশেষজ্ঞরা বলেন, লিঞ্চ সিনড্রোমে আক্রান্ত নারীরা শুধু কোলন নয়, জরায়ুর আস্তরণে (এন্ডোমেট্রিয়াম) ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সময়মতো স্ক্রিনিং—এই কয়েকটি পদক্ষেপই কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে জীবন রক্ষা করতে।

আরও পড়ুন