যে ভিটামিনের অভাবে বাড়ছে নাক ডাকার সমস্যা
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম, তাদের নাক ডাকার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
ডেইলি সান রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাতের গভীর ঘুমে হঠাৎ বিকট নাক ডাকার শব্দে আপনার নিজের বা সঙ্গীর ঘুম ভেঙে যাওয়া একটি অতি পরিচিত সমস্যা।
অনেকে একে গভীর ঘুমের লক্ষণ মনে করলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘স্লিপ ডিজঅর্ডার’ হিসেবে দেখা হয়। মজার ব্যাপার হলো, অনেক সময় ড্রাগ বা থেরাপি নয়, বরং শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম, তাদের নাক ডাকার প্রবণতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। ভিটামিন ডি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাবে গলার পেছনের টিস্যু বা টনসিল ফুলে যেতে পারে, যা শ্বাস চলাচলের পথকে সংকীর্ণ করে দেয়। ফলে ঘুমের সময় নিশ্বাস নিতে বাধা তৈরি হয় এবং বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়।
‘পাব মেড সেন্ট্রাল’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে সৌদি আরবের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ভোগ করছেন, তারা নাক ডাকার সমস্যায় প্রায় দ্বিগুণ হারে আক্রান্ত হন।
গবেষণায় ২৩৮ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা গেছে, এই সংখ্যার মধ্যে ৯৮ জন ব্যক্তি নাক ডাকতেন, আর বাকি ১৪০ জন নাক ডাকতেন না। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, যারা নাক ডাকেন তাদের দেহে ভিটামিন ডি-এর অভাব বেশি। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ নাক ডাকার সমস্যার সম্মুখীন।
ভিটামিন ডি শুধু হাড় ও দাঁতকে শক্তিশালী করে না, এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও বাড়ায়। এছাড়া, এটি ঘুমের মান উন্নত করতেও সহায়ক। গবেষকরা মনে করছেন, ভিটামিন ডি সাপ্লাই থাকলে নাক ডাকার সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
নাক ডাকা বন্ধে করণীয়
ভিটামিন ডি- এর প্রধান উৎস হলো সূর্যালোক। প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগান। ডায়েটে সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং সবুজ শাকসবজি রাখুন। অতিরিক্ত ওজনের কারণে গলার চারপাশে মেদ জমে শ্বাসনালি সরু হয়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমাতে ও নাক ডাকা বন্ধে কার্যকর। চিৎ হয়ে না শুয়ে পাশ ফিরে শোয়ার অভ্যাস করুন। এতে শ্বাসনালি উন্মুক্ত থাকে। ধূমপান ও মদ্যপান অভ্যাস গলার টিস্যুকে শিথিল করে দেয়, যা নাক ডাকার অন্যতম প্রধান কারণ।