EN ☀️
×

Follow Us

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ফেসবুক আইডি হ্যাক, স্টিকার কমেন্ট কি সুরক্ষা দেয়?

গুজবে কান দেবেন না: স্টিকার কমেন্টের সাথে নিরাপত্তার সম্পর্ক নেই

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

ফেসবুক আইডি হ্যাক, স্টিকার কমেন্ট কি সুরক্ষা দেয়?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে বর্তমানে একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে- আইডিতে কোনো সমস্যা বা হ্যাকিংয়ের ভয় হলে তারা বন্ধুদের কাছে ‘স্টিকার কমেন্ট’ করার অনুরোধ জানান।

দাবি করা হয়, এতে আইডি হ্যাকিং থেকে রক্ষা পাবে এবং আইডির রিচ বাড়বে। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, স্টিকার কমেন্টের মাধ্যমে আইডি সুরক্ষার এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি গুজব।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টিকার কমেন্টের সাথে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা হ্যাকিং প্রতিরোধের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষও স্পষ্ট করেছে যে, তারা এমন কোনো নির্দেশনা কখনো দেয়নি। এই ধরণের কমেন্ট বড়জোর একটি পোস্টের এনগেজমেন্ট বা সাময়িক সংযোগ বাড়াতে পারে, কিন্তু এটি হ্যাকিং ঠেকানোর কোনো সক্ষমতা রাখে না।

মার্কিন প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য নেটওয়ার্ক প্রো’- এর মতে, ফেসবুক হ্যাক করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ‘ফিশিং’।

হ্যাকাররা আসল ফেসবুক পেজের মতো একটি ভুয়া লগইন পেজ তৈরি করে ব্যবহারকারীকে লিংক পাঠায়। সেখানে তথ্য প্রবেশ করালেই ব্যবহারকারীর ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারের হাতে চলে যায়। এখানে স্টিকার কমেন্ট কোনো প্রতিরক্ষা তৈরি করতে পারে না।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত ব্যবহারের ভুলের কারণেই আইডি ডিজেবল বা বন্ধ হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো-ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করে এমন কনটেন্ট পোস্ট করা, ভুয়া নাম বা অন্যের ছদ্মবেশে অ্যাকাউন্ট চালানো, অতিরিক্ত হয়রানি বা স্প্যামিং করা, সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপের সাথে জড়িত থাকা।

অতিরিক্ত কমেন্ট চাইলে ফেসবুকের ‘অর্গানিক রিচ’ বাড়ে না বরং তা আরও কমে যেতে পারে। ফেসবুক এই প্রবণতাকে ‘কমেন্ট বেটিং’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ২০১৮ সাল থেকে ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, এই ধরণের পোস্টের মান কমিয়ে দেওয়া হয়, কারণ এগুলো এনগেজমেন্ট বাড়ানোর একটি অনৈতিক মাধ্যম।

ফেসবুক আইডি নিরাপদ রাখতে বিশেষজ্ঞরা স্টিকার কমেন্টের ওপর নির্ভর না করে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে বলেছেন-অবশ্যই অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা। নিয়মিত শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং তা গোপন রাখা।

কোনো অচেনা বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা। অ্যাকাউন্ট ডিজেবল হলে ফেসবুক হেল্প সেন্টারে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র আপলোড করে আবেদন করা।

দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং সন্দেহজনক ডিভাইসগুলো লগইন অ্যাক্টিভিটি থেকে রিমুভ করা। এছাড়া সরাসরি ফেসবুকের ‘Hacked’ পেজে গিয়ে অভিযোগ জানানো।

গুজব বা ভ্রান্ত ধারণার পেছনে না ছুটে সঠিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করলেই কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ থাকা সম্ভব।

আরও পড়ুন