ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করায় বড় মাশুল দিতে হচ্ছে পর্তুগাজ তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। কোচ হোর্হে জেসুসের সাথে তর্কের জেরে ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিপি) তাঁকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছে।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদন মতে, অননুমোদিতভাবে ক্যাম্প ত্যাগ করার কারণে ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ নিয়মের অধীনে রোনালদোকে এই সাময়িক বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি একটি শৃঙ্খলা পরিষদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যারা সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিররের প্রতিবেদন অনুযায়ী পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুসারে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার পরই রোনালদোর নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে।
এরই মধ্যে ভক্ত এবং সতীর্থদের কাছে জনসমক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন রোনালদো। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর এই আচরণের জন্য পরিণতি ভোগ করাটা যুক্তিযুক্ত।
তবে এতে অবসরের কোনোও আভাস দেননি সিআরসেভেন। বরং আরও কিছু দিন খেলতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে ফেডারেশনের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবিও তোলেন।
তিনি বলেন, ‘একটি বা আরও কিছু বিদায়ী ম্যাচ। আমি যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি, গোলও করতে থাকি, তাহলে আমাকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষে আমি আমাদের জাতীয় দলের জন্য লড়াই করার ও জেতার জন্য তৈরি থাকব। বিশ্বাস করুন, এটাই নিখাদ সত্য।’
এফপিপির নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি এক থেকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে রোনালদো জাতীয় দলের জার্সিতে আর কখনোই ফিরে না আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, দলের অধিনায়ক হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে এবং শৃঙ্খলা পরিষদ যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তিনি কোনো আপত্তি ছাড়াই তা মেনে নেবেন।
নরওয়ের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে আল নাসরের সাবেক ম্যানেজার জেসুস তাকে মাঠে না নামানোয় তাঁর সঙ্গে রোনালদোর মতবিরোধ হয়। এরপর রোনালদো পর্তুগালের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান।
এদিকে, জাতীয় দলের হয়ে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার পর রিয়াদে দিরিয়াহ-এর বিপক্ষে আল নাসরের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে ক্যারিয়ারের ৯৮০তম গোলটি করে সৌদি প্রো লিগে নিজের প্রত্যাবর্তন করেছেন রোনালদো।