EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

বেতনে মাস চলে না, ধারের বৃত্তে আটকে মধ্যবিত্ত

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

বেতনে মাস চলে না, ধারের বৃত্তে আটকে মধ্যবিত্ত

দ্রব্যমূল্যের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত।

অ অ

বেতন অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর প্রথম কয়েকটা দিন ভালোই কাটে। কিন্তু মাসের ১০ বা ১৫ তারিখ পেরোতেই চেনা দুশ্চিন্তা ফিরে আসে। কাঁচাবাজার, বাড়িভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন আর যাতায়াত খরচ মেটাতে মেটাতে বেতন শেষ, অথচ মাসের অর্ধেক বাকি। তখন ভরসা আত্মীয়-সহকর্মীর ধার কিংবা ক্রেডিট কার্ডের ঋণ। এটি অনেক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীর বাস্তব চিত্র।

আয়ের চেয়ে ব্যয় বাড়ছে দ্রুত

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যে এই টানাটানির ছবি স্পষ্ট। সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অথচ একই মাসে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ পণ্যের দাম যে গতিতে বাড়ছে, আয় সেই গতিতে বাড়ছে না। এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার নিয়মিত খরচ মেটাতে কোনো না কোনোভাবে ঋণ করছে।

কাটছাঁট প্রতিদিনের জীবনে

মাছ, মাংস ও ভালো মানের ফল কেনা কমেছে। পুষ্টির চেয়ে পেট ভরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জমানোর সুযোগ তো দূর, অনেকে আগের সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া, বাইরে খাওয়া বা উপহার কেনার মতো সামাজিকতা এখন বিলাসিতা।

ধারের বৃত্ত

মাসের ২০ তারিখের পর মুদি দোকানের বাকির খাতা বা পরিচিতদের ‘হাত ধার’-ই অনেকের ভরসা। পরের মাসে বেতনের বড় অংশ যায় আগের দেনা শোধে। ফলে নতুন মাসের শুরুতেই আবার ঘাটতি তৈরি হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতি শুধু একটি সংখ্যা নয়; এটি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যে সরাসরি আঘাত। বাজারের কার্যকর তদারকি, নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও প্রকৃত আয় বাড়ানোর টেকসই উদ্যোগ না নিলে এই টানাপোড়েন মধ্যবিত্তের জীবনকে আরও সংকটাপন্ন করবে।

আরও পড়ুন