EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

যে ৫ অভ্যাস তরুণদের দীর্ঘদিন সুস্থ রাখবে

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

যে ৫ অভ্যাস তরুণদের দীর্ঘদিন সুস্থ রাখবে

তরুণ বয়সের ব্যায়াম ও সুষম খাবার গড়ে ভবিষ্যৎ সুস্থতা।

অ অ

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবার আর মানসিক চাপের কারণে খুব অল্প বয়সেই অনেকে নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে, দীর্ঘকাল রোগমুক্ত ও সতেজ থাকতে কোনো অলৌকিক ওষুধের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের সাধারণ কিছু অভ্যাসই আপনাকে দিতে পারে শতভাগ সুস্থতার গ্যারান্টি।

সুষম খাবার গ্রহণ

সুস্থতার মূল ভিত্তি হলো সঠিক পুষ্টি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত বা ফাস্টফুড বাদ দিয়ে প্রাকৃতিক খাবার রাখুন। পাতে রাখুন পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি, রঙিন ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ চর্বিযুক্ত মাছ।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং ট্রান্সফ্যাট (ভাজাপোড়া খাবার) খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করুন। এগুলো হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

নিয়মিত হাঁটাহাঁটি

শরীরকে সচল রাখা দীর্ঘায়ুর অন্যতম প্রধান শর্ত। অলস জীবনযাপন শরীরের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। জিমেই যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন।

এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, মেদ জমতে দেয় না এবং হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী রাখে।

পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুম কেবল শরীরের ক্লান্তি দূর করে না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মেরামত ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতি রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র ঘুমের অভ্যাস করুন।

ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা যেকোনো ধরনের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের হরমোন ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে বাধা দেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান

আমাদের শরীরের সিংহভাগই পানি। তাই সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পানের বিকল্প নেই। প্রতিদিন নিয়ম মেনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস (২.৫ থেকে ৩ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

পানি শরীরের টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়, হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ক্রনিক স্ট্রেস নিঃশব্দে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। কাজের ফাঁকে নিজের জন্য সময় বের করুন। মন শান্ত রাখতে মেডিটেশন বা ইয়োগা করতে পারেন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটান।

হাসিখুশি থাকলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ বা হ্যাপি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক অবসাদ দূর করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সুস্থতা কোনো এক দিনের চেষ্টা নয়, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একদিনেই সব অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই আজই যেকোনো একটি ভালো অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন। সুস্থ শরীর ও প্রাণবন্ত মনের চেয়ে দামি আর কিছুই হতে পারে না।

আরও পড়ুন