পশ্চিমা সংস্কৃতিতে হ্যালোইন উৎসবে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বুকস ফর ট্রিটস ডে বা বই উপহার দেওয়ার দিন।
পশ্চিমা সংস্কৃতিতে হ্যালোইন উৎসবে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে বুকস ফর ট্রিটস ডে বা বই উপহার দেওয়ার দিন। হ্যালোইনের রাতে শিশুরা বাড়ি বাড়ি গেলে চকলেট বা সুগার ক্যান্ডির বদলে তাদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় বই।
বই পড়ায় উৎসাহ বাড়াতে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর আকর্ষণীয় গল্পের বই তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপন করা হয়।
হ্যালোইন উৎসবের ক্যান্ডি বা চকলেটের একটি স্বাস্থ্যকর ও বুদ্ধিদীপ্ত বিকল্প হিসেবে দিবসটি চালু করা হয়। এই দিবসের মূল ধারণা আসে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় রেবেকা মরগান নামের এক নারীর দূরদর্শী চিন্তায়।
হ্যালোইনে শিশুরা সাধারণত বিপুল পরিমাণ চকলেট, ক্যান্ডি এবং চুইংগাম সংগ্রহ করে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত এই খাবারগুলো শিশুদের দাঁত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
এই দিবসের পেছনে চিন্তা ছিল সুস্থ ডায়েট নিশ্চিত করা, কল্পনাশক্তির বিকাশ ও পড়ার অভ্যাস বাড়ানো। ক্যান্ডির মিষ্টি স্বাদ কিছুক্ষণ পরই ফুরিয়ে যায়, কিন্তু একটি ভালো বই শিশুর মনে আজীবন টিকে থাকে এবং তার কল্পনার জগৎকে বড় করে।
খেলার ছলে শিশুদের হাতে শিক্ষণীয় ও মজাদার বই তুলে দিয়ে তাদের মধ্যে রিডিং হ্যাবিট বা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এই দিন উদযাপনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার অনেক এলাকায় এই দিনটি বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। হ্যালোইনের কিছুদিন আগে থেকেই অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের বয়সী বাচ্চাদের উপযোগী মৃদু ব্যবহৃত বা নতুন কমিকস, রূপকথা, সায়েন্স ফিকশন এবং কমিক বই সংগ্রহ করে রাখেন।
হ্যালোইনের রাতে যখন কস্টিউম পরা শিশুরা দরজায় এসে নক করে, তখন তাদের সামনে সাজিয়ে রাখা বইগুলোর মধ্য থেকে তাদের নিজেদের পছন্দমতো ১ বা ২ টি বই বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
শিশুরা ক্যান্ডির চেয়েও বেশি উৎসাহ নিয়ে নিজেদের পছন্দের বইটি বেছে নেয়।
অনেক স্থানীয় লাইব্রেরি, স্কুল এবং সামাজিক সংগঠন এই দিনে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।