টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকের ঢল
ডেইলি সান রিপোর্ট, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ এএম
কক্সবাজারের সৈকতের বালিয়াড়িতে অবসর কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার ছুটে এসেছে সারা দেশ থেকে নানা পর্যটক।
সাগরের নীল জলরাশি, ঢেউয়ের গর্জন আর সৈকতের বালিয়াড়িতে অবসর কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজার ছুটে এসেছে সারা দেশ থেকে নানা পর্যটক। উৎসবের রং আর টানা ছুটির আনন্দ দুইয়ে মিলে জমজমাট হয়ে উঠছে দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা পাঁচ দিনের ছুটির শুরুতে লাখো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। পর্যটকদের জন্য নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বন্ধ ২০-২১ অক্টোবর। ২২ অক্টোবর বিশেষ ছুটি। ২৩-২৪ (শুক্র-শনি) সাপ্তাহিক ছুটি হয়েছে। এতে টানা ৫ দিন পর্যটকে সরগরম থাকবে কক্সবাজার। ২১ অক্টোবর বিসর্জন উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসবে লাখো মানুষের মিলনমেলা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ছুটির প্রথমদিন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান পর্যটন নগরীতে হোটেল-মোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, পূজার ছুটিতে পাঁচ দিনে সাত লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটতে পারে।
সাধারণত নভেম্বর থেকে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এবার দুর্গাপূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সমুদ্রের ঢেউ, সৈকতের মনোরম পরিবেশ ও অনুকূল আবহাওয়া উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকরা। কেউ সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলে স্মরণীয় করে রাখছেন ভ্রমণের মুহূর্ত।
সৈকতের বালিয়াড়িতে ঘোরাঘুরি, ঘোড়ায় চড়া, বিচবাইক ও জেটস্কিতে চড়তেও দেখা গেছে অনেককে। কেউ সাগরে গোসল করছেন, আবার কেউ কিটকটে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের নির্মল বাতাস।
সৈকতের ব্যবসায়ীরা বলেন, ছুটির প্রথমদিন সকাল থেকে সৈকতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক মানুষও সৈকতে ঘুরতে আসছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এদিকে পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সৈকতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লাইফগার্ড ও নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছেন।
বিশেষ করে সাগরে গোসলের সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কয়েকজন পর্যটকরা জানান, কক্সবাজারের সৈকত পর্যটকদের কাছে সব সময়ই আকর্ষণীয়। আবহাওয়া ভালো থাকায় সৈকতে এসে বেশ ভালো সময় উপভোগ করছেন। সমুদ্র পাড়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর অনুভুতি খুবই মধুর।
কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সমুদ্রে স্নান। পর্যটকদের এই সমুদ্রস্নান নিরাপদ করতে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন সি-সেইফ লাইফগার্ডের সদস্যরা।
যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে লাইফগার্ডের আওতাধীন এলাকায় সমুদ্রে গোসল করতে পর্যটকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সৈকতে নিয়োজিত সি-সেইফ লাইফগার্ড এর উদ্ধারকর্মী মো. সেলিম উদ্দীন জানান, ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন এবং লাইফগার্ডদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামা জরুরি।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পূজার দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটির শুরুতেই কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে। আশা করছি, পাঁচ দিনের ছুটিতে প্রতিদিন গড়ে দেড় লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন। সেই হিসাবে পাঁচ দিনে সাত লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হতে পারে।
কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। এসব আবাসিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
শুধু সমুদ্র সৈকত নয়, পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানেও। মেরিনড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, দরিয়ানগর, ইনানী, পাটুয়ারটেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষ করে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং পর্যটকদের হয়রানি রোধে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্র সৈকতসহ সব পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের দল দায়িত্ব পালন করছেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটনশিল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সব সময় আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা নজরদারি করছি, যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে এবং পর্যটকদের কোনো ধরনের হয়রানি করতে না পারে।’
কক্সবাজার বেড়াতে এসে কোন পর্যটক যেন ভোগান্তি আর হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখার তাগিদ পর্যটন বিশেষজ্ঞদের।