EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

আপনি একাই সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করেন কী না জেনে নিন ৪টি লক্ষণে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম

আপনি একাই সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করেন কী না জেনে নিন ৪টি লক্ষণে

একা একজনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সঙ্গীর মনে ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

সম্পর্কের ব্যাপারে অনেক পুরনো ধ্যানধারণা রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে তা ভুলও প্রমাণ হয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো— সম্পর্কে যেকোনো একজনের ‘কর্তৃত্ববাদী বা চালকের আসনে’ থাকা। ইংরেজিতে একে বলে, ‘ওয়্যার দ্য প্যান্টস’। মনে করা হয়, যিনি পুরুষালি স্বভাবের, ঘরপ্রধান বা বেশি প্রভাবশালী, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল তারই।

বর্তমান যুগে এই ধারণাটি বেশ সেকেলে হয়ে গেছে। একটি সুস্থ সম্পর্কে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা জরুরি। কিন্তু অজান্তেই কি আপনি আপনার সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিচ্ছেন? একা একজনের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ সঙ্গীর মনে ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে।

নিচের ৪টি লক্ষণ মিলিয়ে দেখুন তো, সম্পর্কের পুরো দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ একা আপনার কাঁধেই রয়ে গেছে কী না। সঙ্গে কিন্তু পরামর্শও রয়েছে। 

বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই আপনি একা নেন

অনেক সম্পর্কেই একজন থাকেন মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। অন্যজন পরিস্থিতি অনুযায়ী মানিয়ে নেন। এটি সবসময় খারাপ না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে ভারসাম্য নষ্ট করে।

লক্ষণ: সঙ্গীকে না জানিয়েই ছুটির দিনের পরিকল্পনা করা, ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ার টিকিট বুক করা বা কাউকে দাওয়াত দেওয়া।

পরামর্শ: সঙ্গী আপনার সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছেন মানেই এই নয় যে তার কোনো মতামত নেই। যেকোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে তার মতামতকে গুরুত্ব দিন।

অর্থকে ক্ষমতার উৎস মনে করা

টাকা-পয়সার বিষয়টি সম্পর্কের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে যখন একজন সঙ্গী আর্থিক সমর্থনের জন্য অন্যজনের ওপর নির্ভরশীল থাকেন।

লক্ষণ: ঝগড়া বা তর্কের সময় "টাকা তো আমি দিচ্ছি/খরচ তো আমি চালাচ্ছি"—এই এক লাইনে আলোচনা থামিয়ে দেওয়া।

পরামর্শ: বেশি আয় করা মানেই সম্পর্কে বেশি ক্ষমতার অধিকারী হওয়া নয়। অর্থকে যদি তর্কের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন, তবে নিজের আচরণ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

শেষ কথাটি সবসময় আপনারই হয়

একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা আপস করার সমান অধিকার থাকা উচিত।

লক্ষণ: যেকোনো মতবিরোধের পর দিনশেষে সিদ্ধান্তটি সবসময় আপনার ইচ্ছানুসারেই হওয়া।

পরামর্শ: যে বিষয়গুলো খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেখানে ছাড় দেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও যদি প্রতিবার আপনার সঙ্গীকে একতরফাভাবে ছাড় দিতে হয়, তবে সম্পর্কে কর্তৃত্বের ভারসাম্য নেই।

সবসময় আপনার পরিকল্পনা ও লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া

নিজের স্বপ্ন এবং ক্যারিয়ারের লক্ষ্যকে সম্মান করা জরুরি, তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু ত্যাগ স্বীকারও করতে হয়। কাউকেই তার সঙ্গীর জীবনে 'পার্শ্বচরিত্র' মনে হওয়া উচিত নয়।

• লক্ষণ: ছুটির দিনগুলো সবসময় আপনার ইচ্ছেমতো কাটানো কিংবা উৎসব-পার্বণ কেবল আপনার পরিবারের সাথেই উদযাপন করা।

• পরামর্শ: অনেক সময় সঙ্গী ঝামেলা এড়াতে চুপ থাকেন বা নিজের চাহিদা প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন। তাই সঙ্গী নিজে থেকে কিছু না বললেও, তার মনের ইচ্ছাটি জানার চেষ্টা করুন।

সম্পর্কে একজন নেতৃত্ব দিতেই পারেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে অন্যজন যেন দমবন্ধ বোধ না করেন। কিছু দায়িত্ব সঙ্গীর ওপর ছেড়ে দিন। সম্পর্ককে আরও দ্বিমুখী ও সুন্দর করে তুলুন।

আরও পড়ুন