EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

আগুনের দুর্ঘটনা বাড়লে বুঝতে হবে শুষ্ক মৌসুম শুরু

ডেইলি সান রিপোর্ট, ফিচার

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

আগুনের দুর্ঘটনা বাড়লে বুঝতে হবে শুষ্ক মৌসুম শুরু

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

শুষ্ক মৌসুমে সাধারণত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাড়ে। আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে গেলে বুঝতে হবে শুকনো মৌসুম শুরু হয়েছে। এসময় একটু অসাবধানতা ও অসচেতনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মূলত শুষ্ক মৌসুমে বাতাস ও পরিবেশের আর্দ্রতা কমে যায়। ফায়ারি সার্ভিস সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে (বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে, অক্টোবরের শুরুতে) অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ও তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো জেনে নিন।

প্রাকৃতিক কারণ (পরিবেশের শুষ্কতা)

আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এ সময় বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ খুব কম থাকে। ফলে চারপাশের পরিবেশ, গাছের পাতা, খড়কুটো এবং ঘরবাড়ির কাঠের কাঠামো শুকিয়ে থাকে।

তীব্র গরমে এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় সামান্য একটু আগুনের স্ফুলিঙ্গ (স্পার্ক) পেলেই তা দ্রুত দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। বাতাসে আর্দ্রতা না থাকায় আগুন খুব দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।

কী করতে হবে?

‘অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩’ এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সেফটি প্ল্যান গ্রহণ করুন এবং এর সব শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করুন।

রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন। গ্যাসের চুলা নেভাতে ফুঁ দেবেন না। চুলার নব ভালোভাবে বন্ধ করুন।

বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে ফেলুন।

ছোট শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই ও লাইটার নিয়ে খেলতে দেবেন না।

দাহ্যবস্তুর গুদামে খোলা বাতি ও মশার কয়েল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অন্যান্য স্থানেও এগুলো ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

গ্যাসের চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন। গ্যাস জমে থাকা অবস্থায় চুলা জ্বালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বিদ্যুৎ সংযোগ, তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। ত্রুটিপূর্ণ তার ও অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড এড়িয়ে চলুন।

বাসাবাড়ি, কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র স্থাপন করুন। এগুলোর ব্যবহার শিখুন এবং নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া আয়োজন করুন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে অগ্নিপ্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট, বসতঘর বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের পর দরজা-জানালা খুলে পর্যাপ্ত সময় বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন। গ্যাসের গন্ধ বা জমে থাকার আশঙ্কা থাকলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা দিয়াশলাই জ্বালাবেন না। নিরাপদ স্থান থেকে জরুরি সহায়তা নিন।

নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।

গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং অগ্নিনিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করুন।

প্রতিরোধই অগ্নিদুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায়। অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতন হোন। নিয়ম মেনে চলুন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকুন।

আরও পড়ুন