EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

পদ্মার চরে জীবনের চালচিত্র

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম

পদ্মার চরে জীবনের চালচিত্র

বালুচরে একজোড়া মহিষ নিয়ে চলেছেন প্রবীণ ‘মহিষাল’। ছবি: মেহেদী হাসান

অ অ

কবির ভাষায় শস্য-শ্যামল বাংলার প্রকৃত রূপ গ্রামবাংলায় লুকিয়ে থাকলেও, সেই সৌন্দর্যের আড়ালে কোথাও কোথাও জমে আছে দীর্ঘ বঞ্চনার ইতিহাস। খরস্রোতা পদ্মার বুকে জেগে ওঠা ধু ধু বালুচরগুলো তেমনই এক অবহেলিত জনপদ। নদী যেমন এক কূল ভেঙে অন্য কূল গড়ে, চরের মানুষের ভাগ্যও তেমনি ভাঙা-গড়ার খেলায় আবর্তিত হয়।

শরতে দিগন্তজোড়া কাশফুল, শীতের সকালে কুয়াশাঘেরা শান্ত নদী আর গোধূলিতে চরে বিচরণ করা গবাদি পশুর সারি—বাইরে থেকে মনে হয় শিল্পীর আঁকা ক্যানভাস। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটেও চলতে হয়।

একসময় চর মানেই ছিল শুধু বালু। এখন মানুষের পরিশ্রমে পলি ও বালুর মিশ্রণে সেখানে ফলছে আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, বাদাম ও ডাল। চারণভূমিতে দেখা মেলে শত শত গরু-মহিষের বাথান। তবে আচমকা বন্যা বা নদীভাঙন নিমেষে কেড়ে নেয় সারা বছরের স্বপ্ন।

অধিকাংশ দুর্গম চরে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। মাঝরাতে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে বা প্রসূতির জরুরি চিকিৎসা লাগলে উত্তাল পদ্মা পাড়ি দিয়ে শহরে পৌঁছানো ভাগ্য ও সময়ের ওপর নির্ভর করে। শিশুরা ভাঙাচোরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনোমতে পড়তে পারলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সবার জোটে না।

ইদানীং চরেও লেগেছে বদলের ছোঁয়া। সৌরবিদ্যুৎ আলোকিত করছে অন্ধকার ঘর। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটের কল্যাণে তরুণেরা যুক্ত হচ্ছে বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে। বালুপথে ঘোড়ার গাড়ি ও বিশেষভাবে রূপান্তরিত মোটরসাইকেল চরের ভেতরের যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের চিত্র বদলে দিয়েছে।

চরের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করতে করতেই জন্মায়, বড় হয়। নদী সব কেড়ে নিলেও তারা নদী ছেড়ে যায় না; নতুন চরে আবার বসতি গড়ে। শত কষ্টেও মুখে লেগে থাকে সরল হাসি। বেঁচে থাকার এই অদম্য স্পৃহাই পদ্মার চরের জীবনের আসল চালচিত্র।

ইমন/ডেইলি সান

আরও পড়ুন