EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন কি না, বুঝবেন কীভাবে?

সরকারি চাকরিই একমাত্র পথ নয়। নিজের সক্ষমতা ও পরিস্থিতি বুঝে বিকল্প ক্যারিয়ারের কথাও ভাবতে হবে তরুণদের

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন কি না, বুঝবেন কীভাবে?

বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছেন তরুণেরা; সবার জন্য নয় সরকারি চাকরি। প্রতীকী ছবি

অ অ

বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে যেকোনো মূল্যে একটি সরকারি চাকরি—বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডার—পাওয়ার এক তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তার কারণে বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধন বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরির প্রতি এই আকর্ষণ আরও বেড়েছে। প্রতিবছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হয়ে এই সেক্টরে ভাগ্য পরীক্ষা করতে নামছেন।

তবে বাস্তব চিত্র হলো, প্রার্থীর তুলনায় শূন্য পদের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। সবার জন্য সরকারি চাকরি নয়—এই কঠিন সত্যটি মেনে না নিয়ে বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়ার কারণে অনেক তরুণ তাদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন। ক্যারিয়ারের সঠিক সিদ্ধান্ত সময়মতো না নিলে বড় ধরনের হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই প্রস্তুতি শুরু করার আগেই তরুণদের আত্মমূল্যায়ন করা জরুরি।

কারা সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেবেন?

ধৈর্য ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রস্তুতি যাদের আছে: সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা শেষ হতে কয়েক বছর লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে পড়ার মানসিকতা যাদের আছে, তারাই এই পথ বেছে নিন।

যাদের পারিবারিক ও আর্থিক ব্যাকআপ রয়েছে: অনার্স শেষ করার পর পরিবার থেকে ২-৩ বছর কোনো আর্থিক চাপ ছাড়া পড়াশোনার সুযোগ ও ব্যাকআপ যাদের আছে, তারা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

যাঁরা পড়াশোনায় ধারাবাহিক এবং সিলেবাসমুখী: বিশাল সিলেবাস দেখে যারা ঘাবড়ে যান না, বরং রুটিন মাফিক প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে পারেন।

কাদের সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া উচিত নয়?

দ্রুত আয়ের প্রয়োজন যাদের: যাদের অনার্স শেষ করেই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে বা নিজের খরচ নিজেকেই চালাতে হবে, তাদের জন্য বছরের পর বছর সরকারি চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করা ঝুঁকিপূর্ণ।

উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল মানসিকতার তরুণ: যারা বাঁধাধরা নিয়মের বাইরে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন, নতুন কিছু তৈরি করতে চান, তাদের জন্য সরকারি চাকরি একঘেয়ে লাগতে পারে। তাদের কর্পোরেট সেক্টর, স্টার্টআপ বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে যাওয়া উচিত।

ঝুঁকি নেওয়ার ভীতি ও ব্যাকআপ প্ল্যান না থাকা: যদি সরকারি চাকরি না হয়, তবে জীবন থমকে যাবে—এমন মানসিকতা থাকলে এই প্রতিযোগিতায় নামা ঠিক নয়। একটি নির্দিষ্ট সময় (যেমন ২ বছর) চেষ্টা করার পর বিকল্প ক্যারিয়ারে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকতে হবে।

বিকল্প হিসেবে কী ভাবা যেতে পারে?

সরকারি চাকরির আসন সীমিত হওয়ায় দেশের একটি বড় অংশকে বেসরকারি খাতেই ক্যারিয়ার গড়তে হবে। সময়ের সাথে সাথে নিচের সেক্টরগুলো দারুণ বিকল্প হয়ে উঠছে:

কর্পোরেট ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি: টেকনিক্যাল ও সফট স্কিল (যেমন: ডেটা অ্যানালাইসিস, ডিজিটাল মার্কেটিং, কোডিং) দক্ষ তরুণদের জন্য বেসরকারি খাতে বিশাল সুযোগ ও আকর্ষণীয় বেতন রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং: বৈশ্বিক বাজারে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার বা রিমোট জবের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা সরকারি চাকরির চেয়েও অনেক বেশি আর্থিক স্বাধীনতা দেয়।

উদ্যোক্তা হওয়া: নিজের আইডিয়া কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বা স্টার্টআপ শুরু করলে শুধু নিজের কর্মসংস্থানই হয় না, অন্য অনেকের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়।

সরকারি চাকরি জীবনযাপনের একমাত্র সমাধান নয়। অন্ধভাবে স্রোতে গা না ভাসিয়ে নিজের মেধা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন