পূজার ছুটি কড়া নাড়ছে দরজায়। মন হয়তো আগেই উড়ে গেছে কক্সবাজারের সৈকতে কিংবা সাজেকের মেঘের রাজ্যে। কিন্তু যাতায়াতের টিকিট বা হোটেল না মিললে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ছুটিকে স্মরণীয় করার কয়েকটি মজার উপায় রইল।
ড্রয়িংরুমেই কক্সবাজার
কক্সবাজার যাওয়া হয়নি তো কী? ড্রয়িংরুমে চাদর বিছিয়ে পাশে বালতিতে পানি ভরে রাখুন। ইউটিউবে সাগরের ঢেউয়ের শব্দ ছেড়ে সানগ্লাস পরে শুয়ে পড়ুন। গায়ে বালু লাগবে না, জ্যামেও পড়তে হবে না, ডাব কিনতে গিয়ে পকেটও ফাঁকা হবে না।
আত্মীয়ের বাসায় ঘুরে আসুন
হোটেল না মিললে ভরসা দেশের সবচেয়ে পুরোনো ‘হোটেল চেইন’—আত্মীয়ের বাসা। দূর সম্পর্কের খালা, ফুফু বা মামার বাসায় হাজির হয়ে বলুন, ‘খুব মনে পড়ছিল, তাই চলে এলাম!’ দুই-তিন দিন পর তাঁদের মুখের ভাব একটু বদলাতে পারে, তবে বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার সুযোগ আর কোথায় মিলবে?
ছাদে ছুটি
বিকেলে মাদুর আর ফ্লাস্কে চা নিয়ে ছাদে চলে যান। ইট-পাথরের দেয়ালকে কল্পনায় সুন্দরবন বা শ্রীমঙ্গল ভেবে নিন। রাতে খোলা আকাশের নিচে তারা গুনতে গুনতে গান গাওয়ার আনন্দ কোনো পাঁচ তারকা হোটেলের চেয়ে কম নয়।
ফাঁকা ঢাকায় ঘোরাঘুরি
ঢাকা বা আশপাশে থাকলে ছুটিতে ফাঁকা শহরের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই। জ্যামমুক্ত রাস্তায় রিকশায় ঘুরে আসুন দিয়াবাড়ি, রমনা পার্ক, ৩০০ ফিট কিংবা বুড়িগঙ্গার পাড়। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে মানুষ কম থাকবে, এটাই ছুটির বড় পাওনা।
ভার্চুয়াল ভ্রমণ
খরচ নেই, টিকিটের যুদ্ধও নেই। ফ্যান বা এসি ছেড়ে ৪কে ওয়াকিং ট্যুরের ভিডিও দেখুন। সুইজারল্যান্ডের বরফঢাকা পাহাড় থেকে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার—সবই হাতের মুঠোয়।
ছুটি মানেই হাজার টাকা খরচ করে দূরে যাওয়া নয়। টিকিট-হোটেল না পাওয়াটা বরং আশীর্বাদ, অন্তত টাকাগুলো তো বাঁচল! তাই মন খারাপ না করে ঘরের ভেতরেই ছুটির আনন্দ খুঁজে নিন।