ছবি: সংগৃহীত
প্রতিদিনের নাস্তার টেবিলে ডিম একটি চেনা নাম। ডিম ছাড়া যেন নাস্তার টেবিল অসম্পূর্ণ। ছোট-বড় সবার জন্য দৈনিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ডিমের জুরি মেলা ভার। প্রকৃতির তৈরি এক অনন্য ‘সুপারফুড’ ডিম। মানুষের শরীর গঠন থেকে শুরু করে মন ভালো রাখা পর্যন্ত, ডিমের রয়েছে নানামুখী জাদুকরী গুণ। যা বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রমাণিত।
আসুন, জেনে নিই ডিম কেন সুপারফুড?
প্রোটিনের সেরা উৎস
ডিমকে প্রাকৃতিক আমিষের অন্যতম সেরা উৎস বলা হয়। এতে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ৯টি অত্যাবশ্যকীয় উপাদানসহ মোট ১৮টি অ্যামিনো অ্যাসিড একদম সঠিক অনুপাতে থাকে। এই উপাদানগুলো নতুন কোষ গঠন, হাড় মজবুত এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কাজ করে।
এছাড়া, তৈলাক্ত মাছ যারা খেতে পারেন না, তাদের জন্য ডিম হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের চমৎকার ভোজ্য উৎস।হৃদযন্ত্র ও চোখের সুরক্ষা দেয় ডিম।
হার্টের যত্নে
অনেকে ভাবেন ডিম হার্টের ক্ষতি করে। কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এর পাশাপাশি, প্রতিটি ডিমে থাকা প্রায় ১০০ মিলিগ্রাম ‘কোলিন’ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে কাজ করে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।
ওজন নিয়ন্ত্রণ
কম ক্যালরি এবং উচ্চ প্রোটিনযুক্ত হওয়ায় ডিম ওজন কমাতে দারুণ সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় ডিম খেলে তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে এবং পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
এমনকি বয়স বাড়লেও পেশির শক্তি ধরে রাখতে এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে ডিমের 'লিউসিন' ও ভিটামিন 'ডি' রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স মানসিক চাপ কমিয়ে মন ফুরফুরে রাখে।
ডিম নিয়ে যত বিভ্রান্তি
ডিম নিয়ে বাজারে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। যেমন- কুসুমের গাঢ় রং বা খোসার রঙের (সাদা ও বাদামি) সাথে পুষ্টির কোনো সম্পর্ক নেই। একইভাবে, দেশি মুরগি ও ফার্মের মুরগির ডিমের পুষ্টিগত কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।
আর ‘নকল ডিম’ বলতে বাস্তবে কিছু নেই। মূলত তাপমাত্রা বা ফ্রিজে রাখার কারণে ডিমের ভেতরের অংশ কিছুটা বের হয়ে এলে মানুষ ভুলবশত একে নকল মনে করে।
দৈনিক কয়টা খাবেন?
সুস্থ মানুষ দৈনিক ৩-৪টি ডিম কুসুমসহ খেতে পারেন। তবে যাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল), ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগের সমস্যা আছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রতিদিন কুসুম বাদ দিয়ে শুধু ডিমের সাদা অংশ বা সপ্তাহে সীমিত পরিমাণে কুসুম খেতে পারেন।
যারা জিম করেন, ডায়েট সচেতন, ভারী কাজ করেন তাদের পেশি গঠনের জন্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ৪ থেকে ৬টি বা তার বেশি ডিম খাওয়া যেতে পারে।
বাচ্চারাও বয়সভেদে দৈনিক ১-২টি ডিম খেতে পারবে। অতিরিক্ত তেলে ডিম না ভেজে সেদ্ধ করে বা হালকা পোচ, ওমলেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। অতিরিক্ত ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ কিছুটা হ্রাস পায়।
তাই সুস্থ ও চনমনে থাকতে প্রতিদিনের ডায়েটে নির্দ্বিধায় রাখুন একটি অন্তত ডিম। সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই রাখুন এই সুপারফুড।