EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন কি না, বুঝবেন যেভাবে

প্রতিদিনের ছোট ভুল অভ্যাস ও সিদ্ধান্তই আমাদের দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন কি না, বুঝবেন যেভাবে

মাস শেষের আগেই খালি পকেট আর্থিক ঝুঁকির প্রথম সংকেত। ছবি: সংগৃহীত

অ অ

দারিদ্র্য বা চরম অর্থনৈতিক সংকট কি মানুষের জীবনে হুট করে আসে? কোনো বড় ব্যবসায়িক লোকসান কিংবা চাকরি চলে যাওয়া কি এর একমাত্র কারণ? অর্থনীতিবিদেরা বলছেন—না। বেশিরভাগ মানুষের জীবনে আর্থিক পতন এক রাতে আসে না; বরং তা আসে অত্যন্ত ধীর পায়ে, নিঃশব্দে। আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস এবং ছোট ছোট সিদ্ধান্তই আমাদের ভবিষ্যৎ দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।

আজকের এই তীব্র বৈশ্বিক মন্দা ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির যুগে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিটি মানুষেরই নিজের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে ভাবা উচিত। আপনি আসলেই অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ, নাকি অজান্তেই দরিদ্র হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন—তা বুঝতে নিজের জীবনের সাথে নিচের ৫টি ডেঞ্জার সাইন বা সংকেত মিলিয়ে নিন।

মাস শেষের আগেই খালি পকেট

মাসের শুরুতে বেতন পাওয়ার পর ১৫ বা ২০ তারিখের মধ্যেই কি আপনার সব টাকা শেষ হয়ে যায়? পরবর্তী দিনগুলো চলার জন্য আপনাকে কি ক্রেডিট কার্ড, বন্ধু বা আত্মীয়দের ধারের ওপর নির্ভর করতে হয়? একে অর্থনৈতিক পরিভাষায় বলে ‘পে-চেক টু পে-চেক’ লাইফস্টাইল। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর মানে হলো, কোনো কারণে এক মাস আপনার আয় বন্ধ থাকলে পুরো জীবন থমকে যাবে।

জরুরি তহবিল নেই

হুট করে চাকরি চলে যাওয়া, ব্যবসায় লোকসান কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক খরচ চালানোর মতো কোনো টাকা কি আপনার ব্যাংকে জমানো আছে? যদি আগামী ৩ থেকে ৬ মাস চলার মতো কোনো জরুরি তহবিল না থাকে, তবে আপনি চরম ঝুঁকিতে আছেন। যেকোনো একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনাই আপনাকে এক লহমায় মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্রের কাতারে নামিয়ে দিতে পারে।

ঋণ শোধে নতুন ঋণ

ক্রেডিট কার্ডের বিল বা কোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার জন্য আপনাকে কি অন্য কোনো কার্ড থেকে টাকা তুলতে হচ্ছে বা নতুন কোনো লোন নিতে হচ্ছে? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে আপনি অলরেডি একটি বিপজ্জনক ঋণের চক্রে আটকা পড়েছেন। যখন একজন মানুষের নিয়মিত আয়ের সিংহভাগ কেবল ঋণের সুদ মেটাতেই চলে যায়, তখন তার আর্থিক পতন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আয়ের উৎস মাত্র একটিই হওয়া

বর্তমান যুগের কঠিন অর্থনীতিতে একক আয়ের ওপর ভরসা করে বেঁচে থাকা সবচেয়ে বড় বোকামি। আপনার চাকরি যতই নিরাপদ মনে হোক না কেন, যেকোনো সময় কোম্পানি ছাঁটাই বা মন্দা দেখা দিতে পারে। চাকরি বা মূল ব্যবসার পাশাপাশি যদি আপনার কোনো বিকল্প আয়ের উৎস বা এমন কোনো বিনিয়োগ না থাকে যা থেকে নিয়মিত লভ্যাংশ আসে—তবে আপনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

আয়ের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে খরচ

আপনার আয় যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে কি বেশি হারে আপনার শখ বা বিলাসী খরচ বাড়ছে? সমাজে নিজের স্ট্যাটাস বা ভাবমূর্তি ধরে রাখতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় দামি গ্যাজেট, ব্র্যান্ডের পোশাক বা সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বুঝবেন আপনি ফাঁদে পড়ছেন। একে বলে ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’, যা মানুষকে কোনোদিন সঞ্চয় করতে দেয় না।

ভয় নয়, পরিকল্পনা দরকার

আর্থিক সংকট কোনো অভিশাপ নয়, এটি মূলত একটি ভুল লাইফস্টাইল ও পরিকল্পনাহীনতার ফল। ওপরে উল্লেখ করা লক্ষণগুলোর কোনো একটি যদি আপনার বর্তমান জীবনের সাথে মিলে যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে আজই নিজের খরচের হিসাব লিখুন, বাজেট করুন, আর সঞ্চয়ের একটি অঙ্ক আগেই আলাদা করে রাখুন। আজকের ছোট সিদ্ধান্তই আগামীকালের বড় বিপদ থেকে পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।

আরও পড়ুন