EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

এক ফুঁয়ে মোমবাতি না নিভলে কী হয়? জানলে চমকে উঠবেন

দ্বিতীয় ফুঁয়ে ইচ্ছা আটকায় লোকবিশ্বাসে, কেকে ব্যাকটেরিয়া বাড়ে ১,৪০০ শতাংশ

ইমন ইসলাম

ইমন ইসলাম

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

এক ফুঁয়ে মোমবাতি না নিভলে কী হয়? জানলে চমকে উঠবেন

জন্মদিনের কেকে জ্বলন্ত মোমবাতি নেভানোর মুহূর্ত; দ্বিতীয় ফুঁ নিয়ে আছে লোকবিশ্বাস ও স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য।

অ অ

জন্মদিনের কেক কাটার আগে মোমবাতি জ্বালানো হলো। সবাই একসাথে গলা মিলিয়ে গাইল, ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’। এবার এলো সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত—আপনি এক বুক শ্বাস নিয়ে জোরে ফুঁ দিলেন। কিন্তু ভাগ্য খারাপ! কয়েকটি মোমবাতি নিভলেও, এক-দুটি মোমবাতি তখনও টিমটিম করে জ্বলছে। আপনি দ্বিতীয়বার ফুঁ দিয়ে সেগুলো নিভিয়ে দিলেন।

খুব সাধারণ একটা ঘটনা, তাই না? কিন্তু প্রাচীন লোকবিশ্বাস এবং আধুনিক মনোবিজ্ঞানের ব্যাকরণ যা বলে, তা শুনলে পরের বার জন্মদিনে মোমবাতি নেভানোর সময় আপনি নিশ্চিতভাবে কিছুটা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করবেন!

অষ্টাদশ শতকে জার্মানিতে শুরু হওয়া ‘কিন্ডারফেস্ট’ উৎসব থেকে জন্মদিনের মোমবাতি নেভানোর আধুনিক রীতির প্রচলন। সেই প্রাচীন লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, মোমবাতির ধোঁয়া মানুষের মনের গোপন ইচ্ছা সরাসরি ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেখানে একটি কঠোর শর্ত ছিল—মোমবাতি নেভাতে হবে ঠিক এক ফুঁয়ে।

বিশ্বাস করা হতো, কেউ যদি এক ফুঁয়ে সব মোমবাতি নেভাতে না পারে বা দ্বিতীয়বার ফুঁ দিতে বাধ্য হয়, তবে তার মনের ইচ্ছা মাঝপথেই আটকে যায় এবং সেই বছর তার আর কোনো গোপন স্বপ্ন পূরণ হয় না। শুধু তাই নয়, প্রাচীন কিছু ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে মনে করা হতো, দ্বিতীয় ফুঁ দেওয়া মানে হলো নিজের ভাগ্যকে অসমাপ্ত বা অপূর্ণ রাখা।

বিজ্ঞান বা মনোবিজ্ঞান অবশ্য কোনো ভাগ্য বা অলৌকিক ইচ্ছাপূরণে বিশ্বাসী নয়। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দুই ফুঁয়ে মোমবাতি নেভানোর এই ব্যর্থতা মানুষের অবচেতন মনে এক ধরনের অপূর্ণতার অনুভূতি তৈরি করে।

আমরা যখন কোনো প্রতিযোগিতায় নামি বা কোনো লক্ষ্য স্থির করি, তখন অবচেতনভাবেই চাই ‘এক টানে’ বা প্রথম চেষ্টাতেই সফল হতে। জন্মদিনের মোমবাতি এক ফুঁয়ে নেভানোকে আমাদের মস্তিষ্ক জীবনের প্রথম ‘মাইক্রো-চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে ধরে নেয়। যখন কেউ এক ফুঁয়ে সব মোমবাতি নেভাতে পারে, তখন তার মস্তিষ্কে সুখের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা তাকে আগামী ১ বছরের জন্য মানসিকভাবে ভীষণ আত্মবিশ্বাসী ও আশাবাদী করে তোলে।

কিন্তু যখনই দ্বিতীয়বার ফুঁ দিতে হয়, তখন অবচেতন মন সেটিকে একটি ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে রেকর্ড করে। নিছক খেলা বা মজা হলেও, মানুষের মন খুতখুঁতে হয়ে ওঠে এবং মনে এক ধরনের মৃদু নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আপনি যদি লোকবিশ্বাস বা মনোবিজ্ঞান কোনোটাকেই পাত্তা না দেন, তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই তথ্যটি আপনাকে দ্বিতীয়বার ফুঁ দেওয়ার আগে অবশ্যই ভাবাবে। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেকের ওপর জ্বলতে থাকা মোমবাতিতে ফুঁ দেওয়ার কারণে কেকের ওপর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ প্রায় ১,৪০০ শতাংশ বা ১৪ গুণ বেড়ে যায়!

এখন ভেবে দেখুন, আপনি যখন প্রথম ফুঁয়ে ব্যর্থ হয়ে আরও কাছে গিয়ে জোরে দ্বিতীয়বার ফুঁ দিচ্ছেন, তখন আপনার মুখ থেকে নির্গত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও লালা আরও কতগুণ বেশি কেকের ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দ্বিতীয় ফুঁটি কেবল আপনার ‘উইশ’ বা ইচ্ছাকেই নষ্ট করছে না, বরং কেকটিকেও করে তুলছে অস্বাস্থ্যকর!

তাহলে উপায় কী?

বাঙালি সংস্কৃতিতে এখন শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই কেক কাটা আর মোমবাতি নেভানো জন্মদিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই পরের বার যখন জন্মদিনের কেকের সামনে দাঁড়াবেন, ফুসফুস ভরে পর্যাপ্ত বাতাস নিয়ে এক ফুঁয়েই সব আলো নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।

যদি কোনো কারণে এক ফুঁয়ে না নেভে, তবে দ্বিতীয়বার ফুঁ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া না বাড়িয়ে মুচকি হেসে হাত দিয়েই বাকি মোমবাতিগুলো নিভিয়ে দিন। ভাগ্য বা বিজ্ঞান—দুই দিক থেকেই আপনি থাকবেন নিরাপদ!

আরও পড়ুন