EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

মানুষ কেন হঠাৎ অতীতে ফিরতে চাইছে?

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

মানুষ কেন হঠাৎ অতীতে ফিরতে চাইছে?

আশির দশকের ফ্যাশন ও অ্যানালগ জীবনের প্রতি ঝুঁকছে ডিজিটাল-ক্লান্ত জেন-জি প্রজন্ম।

অ অ

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুড়ো আঙুলের অবিরাম স্ক্রলিং, প্রতি মুহূর্তে নোটিফিকেশনের টুংটাং শব্দ, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দাপট—২০২৬ সালের নাগরিক জীবন এখন এমনই যান্ত্রিক। আর এই অতি-আধুনিকতার ক্লান্তি থেকেই যেন একদল তরুণ-তরুণী হঠাৎ ফিরে যাচ্ছে আজ থেকে ৪০ বছর আগের এক সময়ে।

ইনস্টাগ্রাম রিল কিংবা টিকটক টাইমলাইনে এখন ছেয়ে গেছে আশির দশকের ঢিলেঢালা ওভারসাইজড ব্লেজার, হাই-ওয়েস্টেড ডেনিম, পোলো শার্ট আর উইংড আইলাইনারের মেকআপ। প্রশ্ন হলো, যে প্রজন্মের জন্মই হয়েছে আশির দশকের অনেক পরে, তারা কেন এই ‘রেট্রো লুক’ নিয়ে এতটা মেতে উঠেছে?

উত্তরটা ফ্যাশনের চেয়েও বেশি লুকিয়ে আছে মানুষের মনস্তত্ত্বে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এক ধরনের তীব্র ‘ডিজিটাল বার্নআউট’ বা মানসিক ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সবসময় অনলাইনে থাকার বাধ্যবাধকতা তাদের মধ্যে তৈরি করেছে এক ধরনের একাকীত্ব।

আশির দশক ছিল এমন এক সময়, যখন মানুষে মানুষে যোগাযোগ ছিল সরাসরি। চিঠি, ল্যান্ডফোন আর বিকেলে মাঠে আড্ডার সেই ‘অ্যানালগ’ জীবন জেন-জির কাছে এখন এক রূপকথার মতো। রেট্রো ফ্যাশন বা ক্যাসেট প্লেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে তারা মূলত সেই সরল, নির্ভার সময়টাকে ছুঁতে চাইছে। এটি এক ধরনের মানসিক আশ্রয়, যেখানে নেই কোনো অ্যালগরিদমের চাপ।

মনস্তত্ত্বে এর জন্য একটি শব্দ আছে—‘অ্যানিমোইয়া’। এর অর্থ, এমন এক সময়ের জন্য নস্টালজিয়া বা ব্যাকুলতা অনুভব করা, যা মানুষ নিজের জীবনে কখনো দেখেনি। জেন-জি তরুণরা বাবা-মা কিংবা পপ কালচারের মাধ্যমে আশির দশকের গান-সিনেমা দেখে বড় হয়েছে। তাদের কাছে মনে হয়েছে, সেই সময়টা বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি রঙিন, উৎসবমুখর ও নিরাপদ ছিল। সেই কাল্পনিক সুন্দর অতীতের অংশ হতেই তারা রেট্রো লুক আপন করে নিচ্ছে।

আজকের দিনে যেকোনো ছবি এআই দিয়ে নিখুঁত করে ফেলা যায়। কিন্তু জেন-জি এখন নিখুঁত কিছু চায় না, তারা চায় ‘রিয়েল’ বা আসল কিছু। আশির দশকের ফ্যাশনে ছিল একটা অবিন্যস্ত, বোহেমিয়ান ভাব। ছবিতে থাকত সিসিটিভি ক্যামেরা বা ফিল্মের মতো গ্রেন ও ঝাপসা এফেক্ট। তাই আজকের তরুণরা দামি ডিএসএলআর ছেড়ে ভিন্টেজ সিসিডি ক্যামেরা বা ফিল্ম ফিল্টার দিয়ে ছবি তুলছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বা ‘ইমপারফেক্ট’ লুকই তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় স্টাইল স্টেটমেন্ট।

এই মানসিকতাকে খুব ভালোভাবেই ধরতে পেরেছে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও সোশ্যাল মিডিয়া। ‘নস্টালজিয়া মার্কেটিং’-এর অংশ হিসেবে ব্র্যান্ডগুলো আশির দশকের ক্লাসিক ডিজাইনে সামান্য আধুনিক ছোঁয়া দিয়ে বাজারে ছাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন সেই লুকে রিল বানাচ্ছেন, তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে যা ছিল মনের এক চিলতে ভালো লাগা, তা রূপ নিয়েছে এক বিশাল ট্রেন্ডে।

দিনশেষে, আশির দশকের রেট্রো লুকের এই জোয়ার আসলে কিছু পোশাক বা মেকআপের বাড়াবাড়ি নয়। এটি মূলত বর্তমান যুগের তীব্র কাজের চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিমতা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে জেন-জির এক সাময়িক মুক্তির চেষ্টা। ভিন্টেজ কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে তারা আসলে খুঁজছে একটু শান্তি, একটু ধীরস্থির জীবন আর এক চিমটি হারিয়ে যাওয়া সরলতা।

আরও পড়ুন