প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সহজ হচ্ছে নারীর দৈনন্দিন জীবন
মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সের হাত ধরে স্বাবলম্বী হচ্ছেন দেশের নারীরা
ফিচার ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ল্যাপটপে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করছেন এক নারী উদ্যোক্তা।
প্রযুক্তি এখন নারীর জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন শিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক নারী এখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গায় এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মোবাইল আর্থিক সেবা এখন নারীর হাতের মুঠোয়। বিকাশ, নগদের মতো সেবার মাধ্যমে নারীরা নিজের নামে টাকা জমা রাখতে পারছেন। ব্যাংকে না গিয়েই তারা টাকা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারছেন। এতে পরিবারে তাদের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বেড়েছে।
ই-কমার্স ও ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। ঘরে বসেই অনেক নারী পোশাক, খাবার বা হস্তশিল্পের ব্যবসা চালাচ্ছেন। দোকান ভাড়া বা বড় পুঁজি ছাড়াই তারা ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে পারছেন।
ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন কাজের সুযোগও বাড়ছে। গ্রাফিক ডিজাইন, লেখালেখি, ডেটা এন্ট্রির মতো কাজ করে অনেক নারী ঘরে বসেই আয় করছেন। এতে সংসার ও কর্মজীবন একসঙ্গে সামলানো সহজ হচ্ছে।
রাইড শেয়ারিং অ্যাপও নারীর চলাচলে নিরাপত্তা এনেছে। গাড়ি বা মোটরসাইকেল ট্র্যাক করার সুবিধার কারণে একা চলাফেরায় নারীরা আগের চেয়ে বেশি স্বস্তি বোধ করেন।
স্বাস্থ্যসেবাতেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে, বিশেষ করে গ্রামের নারীদের জন্য এটি বড় সুবিধা।
অনলাইন শিক্ষার সুযোগও নারীর দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে। ইউটিউব, অনলাইন কোর্স ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঘরে বসেই নতুন দক্ষতা শেখা যাচ্ছে। এতে চাকরি বা ব্যবসার সুযোগও বাড়ছে।
তবে এই অগ্রগতির পথে চ্যালেঞ্জও আছে। ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব, ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অনলাইনে হয়রানির ঝুঁকি এখনো অনেক নারীর জন্য বাধা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
সবমিলিয়ে প্রযুক্তি নারীর জীবনে সুযোগ ও স্বাধীনতা দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে। সঠিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে আগামী দিনে এই পরিবর্তনের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।