EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

সরকারি ছুটিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে মিয়ানমার

পিউ রিসার্চের জরিপে ১৯০ দেশের মধ্যে ২৯ দিন ছুটি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

সরকারি ছুটিতে বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে মিয়ানমার

সরকারি ছুটির সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ, শীর্ষে মিয়ানমার—পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ।

অ অ

সরকারি ছুটির সংখ্যায় বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের বৈশ্বিক ডাটাবেস বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৯০টি দেশের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে মোট ২৯টি জাতীয় ছুটি রয়েছে।

এই তালিকায় শীর্ষস্থানে আছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মিয়ানমার। দেশটিতে বছরে সরকারি ছুটি ৩০ দিন। তৃতীয় স্থানে আছে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা, যেখানে বছরে ছুটি ২৫ দিন।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যমতে, জাতিসংঘভুক্ত ১৯০টি দেশের বার্ষিক সরকারি ছুটির বৈশ্বিক গড় বা মধ্যম সংখ্যা মাত্র ১৩ দিন। এর তুলনায় বাংলাদেশে বছরে ছুটির সংখ্যা বৈশ্বিক গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

তালিকার সবচেয়ে নিচে আছে সুইজারল্যান্ড। দেশটিতে কেন্দ্রীয় বা ফেডারেল পর্যায়ে জাতীয় ছুটি মাত্র ১ দিন। বাকি ছুটিগুলো স্থানীয় ক্যান্টন ঠিক করে। এ ছাড়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় বছরে ৪ দিন এবং উরুগুয়েতে ৫ দিন সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুসলিম ও বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোয় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব ঘিরে ছুটির সংখ্যা বেশি হওয়ার প্রবণতা থাকে। বাংলাদেশে ছুটি বেশি হওয়ার প্রধান তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছে পিউ রিসার্চ সেন্টার।

প্রথম কারণ ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও উৎসব। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশে বেশ কয়েক দিন ছুটি থাকে। এর পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় উৎসব যেমন দুর্গাপূজা, জন্মাষ্টমী, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনের ছুটিও এই তালিকায় যুক্ত হয়।

দ্বিতীয় কারণ জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক ইভেন্ট। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও পহেলা বৈশাখের মতো ঐতিহাসিক জাতীয় দিবসগুলো সরকারি ছুটি হিসেবে পালন করা হয়।

তৃতীয় কারণ বিশেষ রাষ্ট্রীয় আয়োজন। জাতীয় নির্বাচন বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় ইভেন্ট উপলক্ষে অতিরিক্ত নির্বাহী ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে বার্ষিক মোট ছুটির সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

মিয়ানমারের শীর্ষস্থানের পেছনেও রয়েছে নির্দিষ্ট কারণ। দেশটিতে বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব থিংইয়ান ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল ও চন্দ্রপঞ্জিকাভিত্তিক ছুটির পাশাপাশি জাতিগত ও রাষ্ট্রীয় দিবসের ছুটিও রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় ছুটি বেশি হওয়ার কারণ বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসবের প্রাধান্য এবং প্রতি পূর্ণিমায় পালিত পয়া উপলক্ষে সরকারি ছুটি।

পিউ রিসার্চ সেন্টার এই গবেষণায় তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে ‘টাইম অ্যান্ড ডেট’ এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় শ্রম আইনের ডেটাবেস।

আরও পড়ুন