ছবি: সংগৃহীত
দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় আতঙ্কিত অনেকেই। বিশেষ করে ছোট শিশু সন্তানের অভিভাবকেরা। অনেক আদর ও যত্নে লালন করা আপনার শিশু চোখের আড়াল হলেই যেন বুকে কাঁপুনি দিয়ে ওঠে। তাই শিশুর নিরাপত্তার জন্য তার ব্যক্তিগত সীমানা, আপদকালীন তথ্য এবং অচেনা মানুষের বিষয়ে সচেতনতা শেখানো অত্যন্ত জরুরি।
বয়স অনুযায়ী শিশুকে তার নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলো জানালে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। কার সাথে স্কুল থেকে আসবে, রাস্তায় অচেনা মানুষের সাথে ব্যবহার, নিজেকে হঠাৎ বিপদ থেকে কীভাবে মুক্ত করবে- এমন নানারকম আপদকালীন ও সচেতনা গড়ে তুললে শিশু নিজেও আত্মবিশ্বাসী থাকে।
২-১০ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত কোনো অচেনা জায়গায় গেলে পথ ভুলে, দলছুট হয়ে, প্রলোভনের শিকার হয়ে নিখোঁজ হয়। তাই এ বয়সী শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবক ও সন্তান উভয়ের সচেতনতা জরুরি।
ব্যক্তিগত সীমানা
শিশুকে শেখান যে তার শরীর সম্পূর্ণ নিজস্ব। অনুমতি ছাড়া কেউ তার শরীরে হাত দিলে বা অস্বস্তিকর কিছু করলে জোরালোভাবে "না" বলতে হবে। নিরাপদ ও অস্বস্তিকর স্পর্শের পার্থক্য সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিন। শরীরের গোপনীয় ও স্পর্শকাতর অংশগুলো শিশুকে চিনিয়ে দিন। মা বা কেয়ারগিভার ছাড়া অন্য কেউ এসব জায়গায় হাত দিলে জোরে ‘না’ বলা শেখান।
জরুরি তথ্য, নাম ও ঠিকানা মুখস্থ করানো
৪-৫ বছর বয়স থেকে শিশুকে নিজের পুরো নাম, বাবা-মার নাম এবং মোবাইল নম্বর মুখস্থ করান। বাসার ঠিকানা, এলাকার নাম, বাসার অবস্থান এগুলোও জানিয়ে দিন। কিছুদিন পরপর এ তথ্যগুলো শিশুকে মনে করিয়ে দিন।
বিপদ দেখলে করণীয় বুঝানো
কোনো বিপদে পড়লে বা হারিয়ে গেলে অচেনা জায়গায় না ঘুরে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলুন। অভিভাবক না আসা পর্যন্ত বিশ্বস্ত কোনো মুরুব্বি বা পুলিশকে খুঁজতে শেখান।
-6a9c438f1dd88.webp)
অপরিচিত ও সন্দেহজনক মানুষের ব্যাপারে জানানো
অপরিচিত কেউ খাবার, চকলেট বা খেলনা দিলে তা নিতে শিশুকে স্পষ্টভাবে মানা করুন। এতে শিশু অসুস্থ হতে পারে, জ্ঞান হারাতে পারে - এগুলো শিশুকে বুঝান। যদি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি এসে বলে "তোমার আম্মু তোমাকে ডেকেছে", তখন শিশুটি যেন সেই গোপন কোডটি জিজ্ঞেস করে। কোড বলতে না পারলে তার সাথে যাওয়া যাবে না।
অনুমতি ছাড়া কোথাও না যাওয়া
বাবা-মা বা পরিবারের পরিচিত নির্দিষ্ট কাউকে ছাড়া অন্য কারও সাথে কোথাও যাওয়া নিষেধ তা স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করুন। স্বল্প দূরত্বে যেমন- পাশের বাসায় বা পাশের ভবনে যেতেও অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে তা নিশ্চিত করুন। এছাড়া বড়দের হাত ধরে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে সাবধানে রাস্তা পার হতে শেখানোও জরুরি।
শিশুদের নিরাপত্তায় শিশু নিজে ও অভিভাবকের পাশাপাশি সমাজের সবাইকেই সচেতন হতে হবে। শিশুকে তার ব্যক্তিগত তথ্য, আপদকালীন বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিলে সে নিজেই নিরাপত্তার ব্যাপারে উৎসাহী হবে।