EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

নেপালে বেড়াতে গিয়ে বন্যা-ধসের কবলে পড়লে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নেপালে সাম্প্রতিক বন্যা-ভূমিধসের ঘটনার পর পাহাড়ে ভ্রমণে নিরাপদ থাকার জরুরি পরামর্শ

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

নেপালে বেড়াতে গিয়ে বন্যা-ধসের কবলে পড়লে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নেপালের কোশি নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ি ও সড়ক, দাঁড়িয়ে দৃশ্য দেখছেন স্থানীয়রা।

অ অ

শরৎ ও পূজার ছুটি সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই এখন নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। পাহাড়, মেঘ আর প্রকৃতির টানে নেপাল বরাবরই বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য। তবে বর্ষার এই সময়টায় নেপালের পাহাড়ি পথে ভ্রমণ যতটা মুগ্ধকর, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণও।

সেই ঝুঁকি কতটা বাস্তব, তা সম্প্রতি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে নেপাল নিজেই। ২৬ আগস্ট ভোরে কোশি নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ভেঙে পড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু। শুধু স্থানীয়রাই নন, আটকা পড়েন অনেক পর্যটকও। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দুর্যোগের পর শত শত পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যাঁরা এখন বা আগামী মাসগুলোতে নেপাল যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য এই ঘটনা একটা সতর্কবার্তা।

পাহাড়ের ঢালে হঠাৎ ফাটল দেখা দেওয়া, মাটি বসে যাওয়া, ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া কিংবা পানির প্রবাহে হঠাৎ পরিবর্তন—এসবই বিপদের ইঙ্গিত। এমন কিছু চোখে পড়লে দেরি না করে উঁচু ও স্থিতিশীল জায়গায় সরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নেপালের পাহাড়ি রাস্তায় সামনে মাটি বা পাথর পড়ে থাকতে দেখলে জোর করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। গাড়ি থামাতে হবে নিরাপদ দূরত্বে, তবে ধসের একেবারে গা ঘেঁষে নয়, কারণ প্রথম ধসের পরও আরও মাটি নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বা উদ্ধারকারী দলের নির্দেশনাই মেনে চলা ভালো।

মাটি বা পাথর যেদিকে নামছে, সেই পথ এড়িয়ে দ্রুত পাশের উঁচু জায়গায় সরে যেতে হবে। ধস খুব কাছে হলে নিজে ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারে না নেমে নিরাপদ দূরত্ব থেকে সাহায্যের জন্য খবর দেওয়াই শ্রেয়।

মাথার ওপরের আকাশ পরিষ্কার থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে নদী বা ঝরনার পানি হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, ঠিক যেমনটা হয়েছিল কোশি নদীর ক্ষেত্রে। তাই নদীর একদম কিনারে তাঁবু ফেলা ঠিক নয়। পানি দ্রুত বাড়তে দেখলে ছবি তোলার লোভ সামলে দ্রুত উঁচুতে সরে যাওয়া জরুরি।

নেপাল যাত্রার আগে ফোন পুরো চার্জ করে নিন, সঙ্গে রাখুন পাওয়ার ব্যাংক। জরুরি নম্বর, স্থানীয় গাইড বা হোটেলের যোগাযোগ ফোনে সেভ করে রাখুন। কোথায় যাচ্ছেন, কবে ফিরবেন—এটা বাড়ির কাউকে জানিয়ে রাখুন, কারণ দুর্যোগের সময় নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়তে পারে যেকোনো মুহূর্তে।

নেপালের অচেনা পাহাড়ি এলাকায় একা বের না হয়ে স্থানীয় গাইড বা অভিজ্ঞ সঙ্গীদের সঙ্গে থাকা ভালো। আবহাওয়ার পূর্বাভাস খারাপ হলে ভ্রমণ পিছিয়ে দিতেও দ্বিধা করা উচিত নয়।

ধস বা আকস্মিক বন্যার দৃশ্য মোবাইলে ধরে রাখার লোভ অনেক সময়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের একটা ভিডিওর জন্য জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো মানে নেই।

তাই নেপালে রওনা হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় সতর্কবার্তা দেখে নিন। পরিস্থিতি অনুকূল না মনে হলে পরিকল্পনা পাল্টে ফেলুন নির্দ্বিধায়। কারণ ভ্রমণ পরে আবার করা যায়, জীবন ফিরে পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুন